একজন এওয়ার্ড বা স্বীকৃতি না পাওয়া ক্ষুদে সমাজ কর্মীর গল্প


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৩:২০:৩৩ অপরাহ্ন

শুনেছি মানুষটা ছোটবেলা থেকে পরোপকারী। কোথাও কোন সমস্যার খবর পেলেই ছুটে যেতো। শিশু, কিশোর বয়সে কিছু বুঝে উঠতে পারত না যে, কি ভাবে, কখন, কেমন করে, কোন কাজটা করলে মানুষের ভালো হবে। আবার ভয়ও পেত সে। তারপর ১৯৯১ তে পড়াশুনার উদ্দেশ্যে ঢাকা এসে ১৯৯৪ তে সংসার জীবন। সজ্ঞী পেলেন অতি সাধারন ঘরের এক তরুনি। ছেলেটা খেলা-ধুলায় ও বেশ ভালো ছিলো, বন্ধু মহলে হাস্য-রসিক। তারপর সংসার চালাতে গিয়ে চাকুরী শুরু করলেন। সুনামের সাথে পরিবর্তন করে ৫টি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরীও করলেন দীর্ঘ দিন। ঢাকায় থাকার সুবাদে বিভিন্ন সময় সামাজিক, রাজনৈতিক অস্হিরতায় কিছু কিছু মানুষের জীবন হয়ে যেত দুর্বিসহ। সামনে কারো ছোট-খাটো সমস্যা দেখলেই এগিয়ে যেতেন। এক সময় তিনি মনে করলেন, এভাবে না করে সাংগঠনিকভাবে মানুষের জন্য কিছু করা যায় কি না। শুরু করলেন বন্ধুমহলে আলাপ -আলোচনা ও তৈরী করতে সক্ষম হলেন সমাজ সেবা অধিদপ্তর কতৃক নিবন্ধিত “রাইটস্ ফার্স্ট” নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন। এই সংগঠনের আওতায় সংগঠনের ১০০ উর্ধো সদস্যকে নিয়ে এখন তার পথ চলা। এরই মধ্যে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পেয়ে যান চ্যারেটি ম্যান, সুপ্রিমকোর্ট এডভোকেট ও বিশিষ্ট সমাজ কর্মি জনাব এএইচএম মাঈনুদ্দিন আহমেদ জাহাংগীর কে। যাকে নিয়ে এই লেখা, তার নাম সৈয়দ মাহবুব আলম। থাকেন ঢাকার উত্তরায়। অর্থিক ভাবে তেমন উপকার করতে না পারলেও ব্যক্তি মাহবুব খবর পেলেই মানুষের উপকারে ছুটি চলছেন এখনো। পরিবারে সদস্য সহ অনেকেই তাকে এই ভাবে ছুটে চলা মানা করতো। তারা ভাবতো, অন্যের উপকারে গিয়ে নিজে না কখনো বিপদে পড়ে যায়। ভালো মনে এগিয়ে চললে আল্লাহ্ ও সহায় থাকেন। আর তাই তো কিছুদিন পূর্বে তার হঠাৎ অসুস্হতায় তার বন্ধু মহল থেকে শুরু করে শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঝাপিয়ে পড়েছিলো। এতে তার মনোবল আরো বেড়ে যায়। যে পরিবার তাকে এহেন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলতো, তারাই তাকে এখন সাধুবাদ জানায়। শুধু তাই নয় পরিবারের সদস্যরাও পরোপকারী কাজে বর্তমানে লিপ্ত। যারই ধারাবাহিকতায় মাহবুবের স্ত্রী (রেহানা পারভীন রিনা) দীর্ঘ প্রায় ১ মাস ধরে একজন ক্যান্সার রোগীকে নিয়ে ভারতে অবস্হান করছেন। মাহবুব’রা কখনো এওয়ার্ড বা স্বীকৃতি পায় না। তার পরিবার, বন্ধুমহল ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসাই তার সমাজ সেবায় অবদানের স্বীকৃতি ও বিশাল প্রাপ্তি।।