একজন ‘আবেদা আক্তার’ ও ‘সমাজসেবা’

করোনাকালে ‘দুঃসময়ের বন্ধু’র মতো কাজ করছেন তিনি

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২০ - ০৫:৪১:৫৮ অপরাহ্ন

করোনাভাইরাসে দুর্দশাগ্রস্থ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে উত্তরায় যে কয়জন নারীকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে তাদের মধ্যে অন্যতম একজন আবেদা আক্তার। করোনার শুরু থেকেই সমাজের অসহায় মানুষগুলোর মাঝে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন তিনি। একই সাথে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কথাও ভুলেনফন এই সমাজসেবিকা। মহামারি করোনায় উত্তরার অনেক ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য তিনি অবতীর্ণ হয়েছেন ‘দুঃসময়ের বন্ধু’র মতো করে।

একেই বলে রাজনীতি ও সমাজসেবার উত্তম চরিত্র। হাজারো মানুষ যখন সমস্যায় পতিত। নারী হয়ে একজন আদর্শ সমাজসেবীর ভূমিকায় এসেছেন আবেদা আক্তার। এমনকি কাজ শুরু করে বন্ধ করে দেননি বরং বর্তমানেও চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কাজ দুর্দিনে অসহায় মানুষের চুলায় আগুন জ্বালোনার কাজ, এই কাজ কর্মহীন মানুষগুলোর হাতে প্যাকেটভর্তি খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজ। যা শহরের দরিদ্র ও সমস্যাগ্রস্থ মানুষগুলোকে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

আবেদা আক্তার পূর্বে একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। সমাজের মানুষের প্রতি দায়বোধ-ভালোবাসা, দায়িত্ব ও সমাজ সচেতনতা তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। বর্তমানে তিনি ৫১নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতির উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনগণের সেবা করা, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। রাজনীতির এই নীতির বাস্তব চিত্র সমাজ থেকে যখন অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছিল। রাজনীতির ভীতে দাঁড়িয়ে কিভাবে এটিকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিই হয়তো আমাদেরকে দেখালেন যুব মহিলা লীগের আবেদা আক্তার। করোনার এই বিপদকালীন সময়গুলোতে রাজনৈতিক সহকর্মী ও নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে প্রস্তুতকৃত রান্না করা খাবার বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন সমাজের কর্মহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর মাঝে। একই সাথে নেত্রীর (নাজমা আক্তার, সভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ) অনুপ্রেরণায় প্রতিনিয়তই এসব অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরণ করছেন খাদ্যসামগ্রী। সমস্যাগ্রস্থদের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন রাজধানীর উত্তরা, তুরাগ ও গাজীপুরের টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে।

উত্তরা, তুরাগ ও টঙ্গীতে এই সমাজসেবিকার বাড়িতে যেসব ভাড়াটিয়া বসবাস করছেন; করোনাকালে সেসব ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি। আবেদা আক্তারের মতে, ‘সারাবছরই ভাড়াটিয়ারা ভাড়া পরিশোধ করেই বসবাস করে আসছেন। কিন্তু, হঠাৎ করে জেঁকে বসা করোনা সকলেরই আয়-রোজগার বন্ধ করে দিয়েছে। তাই আমি মনে করি দুঃসময়ে ভাড়াটিয়াদের ভাড়ার চাপ না দিয়ে করে বরং ভাড়া মওকুফ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদেরকে স্বস্তিতে বাস করতে দেওয়াটাই মানবিক।’

মহামারি করোনাকালে আবেদা আক্তারের এই মানসিকতা মানবিকতার এক দৃষ্টান্ত হয়ে আমাদের মাঝে রয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা রইল। তবে, ‘দুঃসময়ের বন্ধু’ আবেদা আক্তারের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আরও একটি উদাহরণ না বললেই নয়। করোনার এই দুর্যোগে উত্তরার সাংবাদিকদের কল্যাণেও এগিয়ে এসেছেন এই নারী। কর্ম হিসেবে ঢাকা উত্তর প্রেস ক্লাবের সমস্যাগ্রস্থ সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য নিজ অর্থায়নে প্রেরণ করেছেন খাদ্য সামগ্রী।

নির্বাচিত কোন জনপ্রতিনিধি না হলেও করোনাকালে আবেদা আক্তারের সমাজসেবায় মুগ্ধ উত্তরা ও আশপাশের মানুষগুলো। এখনও তাঁর উত্তরার বাসার সামনে সমস্যাগ্রস্থ মানুষগুলোর আনাগোনা আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় ইতিহাস-উপন্যাসের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে গণমানুষের সম্পর্কের কথা। সুখে-দুঃখে জনগণের প্রকৃত ভরসার জায়গাই হতে পারে একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক। মানুষের মনে সেরকমই এক বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন উত্তরার আবেদা আক্তার।