উন্নয়নবঞ্চিত তুরাগের মানুষ

অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৯ - ১২:৩২:১৭ অপরাহ্ন

তুরাগ এলাকার মানুষ এখনও উন্নয়নবঞ্চিত। সারা বছরই এ এলাকার সড়কে খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন সড়কে জমে থাকে পানি। যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবসম্পৃক্ত ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় নেয়া হয়েছে।

এক লাখ ১৯ হাজার ভোটারের এ এলাকায় প্রায় চার লাখের বেশি লোকের বসবাস। ৩৩টি গ্রাম ও উত্তরা মডেল টাউনের ১১, ১২, ১৩ ও ১৪নং সেক্টর ও রাজউকের ৩য় প্রকল্প হরিরামপুর ইউনিয়নের আওতাধীন এলাকা।

তুরাগে পানি নিষ্কাশন খালগুলো অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার হওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এখনও অধিকাংশ নিচু এলাকায় মানুষ ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহার করছে।

এগুলো সরাসরি নিচু জায়গায় ও জলাশয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য রিকশার গ্যারেজ ও বস্তি। বস্তিতে মাদকের ছাড়াছড়ি। এখানে রয়েছে প্রায় ২০-২৫টি চিহ্নিত মাদকের স্পট।

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল মোত্তাকিন বলেন, মাদক নির্মূলে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে চালান করছি।

কিন্তু কিছুদিন পর আসামিরা জামিনে বের হয়ে আবার মাদক ব্যবসা করে। তবে মাদক নিয়ে চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তুরাগে কিছু আধুনিকতার ছোঁয়া ও বেশ কিছু বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। এ এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। খালপাড়-দিয়াবাড়ী সড়কের দু’পাশে রয়েছে অবৈধ স্থাপনা।

তুরাগের প্রায় অধিকাংশ সড়ক সরু ও খানাখন্দে ভরা। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সরু রাস্তা হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে না। নেই সড়কবাতি। সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকার হয়ে পড়ে এলাকাটি। এতে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে।

তুরাগে নেই কোনো স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা। ময়লা-আবর্জনা ফেলার নেই কোনো নির্দিষ্ট জায়গা। ফলে যে যার মতো করে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। তুরাগে রয়েছে একটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। এখানে রয়েছে দালালদের ছড়াছড়ি। তুরাগের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা রয়েছে।

তুরাগে নেই কোনো খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, স্টেডিয়াম, লাইব্রেরিসহ কোনো বিনোদন কেন্দ্র।

বাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা মাহাবুবুল আলম ইকবাল মাস্টার বলেন, এ এলাকাটির সমস্যার কোনো শেষ নেই। বিশেষ করে সড়ক যে বেহাল। এতে সারা বছরই জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তুরাগে নেই সরকারি হাসপাতাল। একটিমাত্র বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। জায়গা সংকুলানের কারণে এ হাসপাতালে সবাই চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহম্মেদ ও ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছির উদ্দিন বলেন, নতুন কাউন্সিলর হয়েছি।

তুরাগ এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনসহ একাধিক সমস্যা মেয়র মহোদয়কে জানিয়েছি। দ্রুত এ এলাকাতে কাজ করা হবে।

 

সূত্রঃ যুগান্তর