“৫১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে”

উত্তরা নিউজকে একান্ত সাক্ষাৎকারে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুর রহমান

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ - ০৮:২০:৫২ অপরাহ্ন

এস.এম. মনির হোসেন জীবন: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৫১নং ওয়ার্ড আসন্ন কাউন্সিলর পদে আ’লীগের মনোনয়ন পেয়ে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমান।

আজ রোববার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উত্তরা ১৩নং সেক্টর নিজ বাসার সামনে স্থানীয় মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করে এবং পারিবারিক কবরস্থানে বিশেষ দোয়া ও কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছেন। আ’লীগের মনোনীত দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ডিএনসিসির ৫১ নম্বর ওয়ার্ডকে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমি আমার ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের কল্যানের জন্য বিগত প্রায় ৮ মাস ধরে সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাত দিন কাজ করে যাচিছ। আমি যতো দিন বাঁচবো, ততো দিন নগরবাসির উন্নয়নে কাজ করে যাবো। এই হোক আমার আগামী দিনের পথচলার দৃঢ় প্রত্যয়।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩নম্বর সেক্টরে নিজ বাসভবনে এক বিশেষ সাক্ষাতকারে উত্তরা নিউজকে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি নবগঠিত ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে আমি ব্যাডমিন্টন প্রতীক নিয়ে অংশ গ্রহন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলাম। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৭ই মার্চ আমি শপথ গ্রহন করি। আসন্ন ডিএনসিসির নির্বাচনে ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আমি জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে এবারও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছি।

মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, ডিএনসিসির ৫১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে আগামী দিনে গড়ে তোলা হবে। সেই সাথে অত্র ওয়ার্ডটিকে সম্পুর্ণ নতুন আঙ্গীকে আধুনিকায়ন করা হবে। বর্তমানে আমার ওয়ার্ডে বিদেশী অর্থায়নে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত, রাস্তা কার্পেটিং, মিডিয়ান (রোডডিভাইডার) এর সার্বিক ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ বেশ জোরেসোরে শুরু হয়েছে। আমার ৫১ নং ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে আগামী দিনে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সকলের সহযোগিতা আমি প্রত্যাশা করি।

৫১ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান আছে উল্লেখ করে কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, উত্তরা ১২ নং সেক্টরের নম্বর ৬/সি রোড ও ১৩ ও ১৪ নং রোড, শাহমুখদুম এভিনিউ ১২ ও ১৩ নং সেক্টরের ৩/৩ এ,৩ বি রোডে সড়ক, উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ সড়কের চৌরাস্তা থেকে শুরু করে খালপাড় পর্যন্ত, উত্তরা ১১ নং সেক্টরের রোড নং ১১/১২/১৪/ নং রোডের উভয় পাশ, ৯ নং রোডের ৪/৩ ও ২/এ রোডের কাজও একই সাথে চলমান আছে। ১৩ নং সেক্টরের রোড নং ১০ উভয় পাশের রাস্তা প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মিডিয়ানের কাজ বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

চলতি বছরে ডিএনসিসি কর্তৃক প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ কোটি টাকা বরাদ্ব করা হয়েছে উল্লেখ করে কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, ডিএনসিসির মধ্যে আমার ৫১ নং ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ হচেছ এবং চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জিওভিফোর, টিসি,ওয়াল্ড ব্যাংক ও এডিবি সহ বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মানকাজ অব্যাহত রয়েছে। তার মধ্যে উত্তরা ১৪ নং সেক্টরের ১৩ রোড পূর্ব অংশ, ১১ নং সেক্টরের রোড ৪/৫ সংযোগ সড়ক, একই সেক্টরের ৫ ডি সড়কের দু’পাশ, ১২ নং সেক্টর ঢাকা উইম্যান কলেজ এর সামনের সড়ক,১৪ ও ১৬ নং সড়ক এবং ১৪ নং সেক্টরের ১৬ নং রোড ড্রেন ও রাস্তায় পিচ ডালাই এর কাজ বর্তমানে চলমান আছে। টিসি’র প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ টাকার সার্বিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।

আওয়ামীলীগ নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, সিপিপি কর্তৃক ঢাকা ওয়াসা ডিডব্লিওএসনিআইপি প্রকল্পের আওতায় অঞ্চল-৬ এর ৫১ নং ওয়ার্ডে এইচডিডি পদ্বতিতে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বিগত ৮ মাসে আমার ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ হয়েছে এবং উন্নয়ন কাজ এখনও চলছে।

মোহাম্মদ শরীফুর রহমানের পিতার নাম আলহাজ মো: নওয়াব আলী মাস্টার। তিনি বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামীলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে তুরাগ থানা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা করা হয়। তিনি অসংখ্য প্রাইমারী ও হাইস্কুল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। শরীফুর রহমানের পিতা একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। আমার পিতাকে সকল শ্রেনীর মানুষ ভালবাসে এবং শ্রদ্বার সাথে দেখেন। বাইলজুরী গ্রাম (বর্তমানে) ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। আমার পরিবার হল জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের পরিবার।

পিতার হাত ধরেই আমি প্রথমে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আগমন হয় উল্লেখ করে কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনেপ্রাণে ভালবেসে করে এবং তার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমার রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। আমি আমার বাবার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমি তার আদর্শ ও কৃতকর্মকে ভালবেসে আগামী দিনে সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। মোহাম্মদ শরীফুর রহমান উত্তরা ১১ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির পরপর দুই দুইবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরা মডেল টাউনের ১২টি সেক্টরের সমন্বয়ে গঠিত উত্তরা এসোসিয়েশন (উত্তরা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন) পর পর দুইবার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত আছেন।

কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, আমার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা হল প্রায় ৩০ হাজার। এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর প্রার্থী শরীফুর রহমান বলেন, ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিএনসিসি উত্তরের মেয়রও কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্টিত হতে যাচেছ। আজ রোববার (২৯ ডিসেম্বর) আ’লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এবার দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। তাই আমি নির্বাচন করছি। আমার ৫১ নম্বরের ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষ ও আ’লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ সহযোগী অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছে।

কমিশনের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি। দুই সিটি করপোরেশনের ভোট গ্রহণের জন্য ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে।