প্রচারণার প্রথম দিনে তকমা দেখালো কে?

উত্তরা থেকে বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২০ - ০৮:১২:৪৭ অপরাহ্ন

পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। শুক্রবার উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর রোডস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ আদায়ের পর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। অপরদিকে, উত্তরা ৭নং সেক্টর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ আদায়ের পর মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে হাজারো বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ধানের শীষ প্রতীকে দলটির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এ সময় বৃহত্তর উত্তরার বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারণায় মাঠে নামেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারকসহ অনেকেই। এছাড়াও তাবিথের সমর্থনে প্রচারণায় অংশ নেন যুবদল মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদল নেতা আজমল হুদা মিঠু, কাউন্সিলর প্রার্থী আফাজ উদ্দিন, আলমাছ আলী, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজোয়ান হোসেন রিয়াজ, সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী সোহেলী পারভীন শিখাসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ উত্তর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মেয়র আতিকের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন উত্তরার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আফসার উদ্দিন খান, বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান আলী মণ্ডলসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এলাকার ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের আতিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়র নির্বাচিত হলে আমি মেয়রসহ সব কাউন্সিলরের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করব।” একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ে তোলার জন্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আতিকুল বলেন, ‘আপনার দেখেছেন, নির্বাচনী প্রচারে এমপি বা মন্ত্রীদের অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে একধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমার কথা হচ্ছে, আজ যাঁরা এমপি আছেন, তাঁরাও তো দলের সদস্য। তাঁদেরও তো ইচ্ছা করে আমার সঙ্গে প্রচারে নামার।’ তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, অন্ততপক্ষে যাঁরা এমপি আছেন, তাঁরা যেন আমাদের সঙ্গে মাঠে নেমে কাজ করতে পারেন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য এই বাধাটুকু যেন না থাকে।’

অপরদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন গণস্রোতের তকমা দেখিয়েছেন দলটির মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এ সময় সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রচারণা শুরু করতে না করতেই ব্যাপকভাবে সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটররা সরকারকে বুঝিয়ে দিতে চান যে, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কেউ গণতন্ত্রকে নষ্ট করতে পারবে না।’ এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘লোকজনের যে বিশাল সমাগম হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জন্য একটি বার্তা। তারা যেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করেন, কোনো ধরনের কারচুপির চেষ্টা যেন না করেন।’ পরে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রবীন্দ্র স্মরণী, গাউসুল আজম এভিনিউ, গরীব-ই- নেওয়াজ এভিনিউসহ উত্তরা ও তুরাগের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন তাবিথ আউয়াল।

উত্তরা নিউজ/গাজী-নিয়াজ