উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


উত্তরায় সরকারি জায়গায় বাহাদুরির অন্ত নেই! এলাকাবাসীর ঝুঁকি






উত্তরা নিউজ প্রতিবেদক: রাজউকের সম্প্রসারিত ৩য় প্রকল্পসহ বর্তমানে ছোট-বড় সর্বমোট ১৮টি সেক্টর নিয়ে গঠিত ‘উত্তরা মডেল টাউন’। উত্তরা ১-১৮টি সেক্টরের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমের সর্বশেষে রয়েছে সেক্টর-১০ এর অবস্থান। এটি যেহেতু একটি আবাসিক এলাকা সেমতে, অন্যান্য সেক্টরগুলোর মত এ সেক্টরেও রয়েছে উচ্চ ও মধ্যবিত্তের হাজারও মানুষের বসবাস। সেই সাথে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মর্যাদা সম্পন্ন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অবস্থান রয়েছে সেক্টরটিতে। সরকার উত্তরাকে একটি মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলেও উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরগুলোর মত নানা ধরনের নাগরিক সমস্যা এখনও বিদ্যমান উত্তরার ১০ নং সেক্টরে। সেটিরই অন্যতম নমুনা, সেক্টরস্থ রানাভোলা এভিনিউ সড়কের দ্পুাশে সরকারি খালি জায়গাগুলোতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নানারকম স্থাপনা সমূহ। রানাভোলা এভিনিউ সড়কটি উত্তরা ১০নং সেক্টরের পূর্ব পার্শ্বের শেষ সড়ক হওয়ায় এবং এরও পূর্বে সুইচগেট বেড়িবাধ মহাসড়ক হওয়ায় সেক্টর ও মহাসড়কের রাস্তার দুই পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি (ভূমি) বিদ্যমান রয়েছে। আর এই বিদ্যমান সম্পত্তিকে ঘিরে দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে দখলদারিত্ব আর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হুল্লি। সেক্টরবাসীদের অভিযোগ, রাস্তার পাশে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়তই যানজট ও দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে, রাস্তার উপর বাঁশ, ঠেলাগাড়ি, ট্রাক-পিকআপে মালামাল উঠা-নামানো করা, রাস্তার পাশে ইট-পাথর বিক্রি, রাস্তার উপর রিক্সা গ্যারেজ, বড় বড় বাস দাঁড় করিয়ে রাখা, এভিনিউ সড়ক ধরে দ্রুতগামী বাস-ট্রাকের যাতায়াত ইত্যাদি হওয়ায় সেক্টরবাসীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ফলে সেক্টরবাসীদের প্রাণের ঝুঁকি ও দূর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে রাস্তাটিতে চলাচল করতে হচ্ছে।

গেল সপ্তাহের শুরুর দিকে সরেজমিনে রাস্তাটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আইইউবিএটি গেটের বিপরীত পার্শ্বের জায়গাগুলো থেকে শুরু করে কামারপাড়া ট্রাফিক পুলিশ বক্স পর্যন্ত রাস্তার দুপাশের খালি জায়গাগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে বড় বড় বাঁশ, ইট-পাথর, স্যানেটারি রিংয়ের দোকানসহ নানারকম অবৈধ স্থাপনা। আবার, রাস্তার উপরই লাইন ধরে সাজিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে রিক্সার গ্যারেজ। সেই সাথে একটু পর পর ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন পার্কিং করে রাখা হয়েছে সড়কটির উপর। অপরদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমি নিজেদের দখলে নিতে সড়কের পিচ ঘেঁষে সীমার প্রাচীর স্বরুপ কেউ কেউ স্থাপন করেছে বাঁশের খুটি!

কিন্তু, কারা দীর্ঘদিন ধরে জায়গাগুলো ঘিরে অনুমোদনহীন এই অপ-তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানায়, কারও নাম বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি এখানকার নেতাকর্মীরাই এগুলো দখল করে রেখেছে। নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেকের কাছেই চলে যায় প্রতি সপ্তাহে ও মাসে উঠানো চাঁদা সমূহ। এসময় পাশে থাকা অপরিচিত আরেক ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানায়, প্রতি সপ্তাহ ও মাসভিত্তিক এখানকার প্রত্যেকটা দোকান ও বাঁশের পট্টি থেকে চাঁদা উঠানো হয়। যারা চাঁদা তুলে তারা রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে চাঁদা উঠায়। অপরিচিত ওই ব্যক্তি আরও জানায়, এরা মূলত হাতে গোনা কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সাঙ্গপাঙ্গ। চাঁদাবাজি করেই এরা চলে।
এরূপ অবস্থায় সেক্টরবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের মতে, অতি দ্রুত সেক্টরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ও সরকারের পরিকল্পনা মাফিক উত্তরাকে একটি আবাসিক মডেল টাউন হিসেবে গড়ে তুলতে উত্তরা ১০ নং সেক্টরের রানাভোলা সড়কের দুপাশে পানি উন্নয়নের বোর্ডের জায়গাগুলো দখলমুক্ত করে যান চলাচল নির্বিঘ্ন সেক্টরবাসীদের হাটা চলার উপযুক্ত পরিবেশ ও স্থানটিতে যতদিন না পর্যন্ত চার লেনের রাস্তা তৈরির কাজ না শুরু হয় ততদিন পর্যন্ত একটি দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বিশাল জায়গাটিকে একটি প্রাণচাঞ্চল্যময় স্থানে রূপ দেয়া যেতে পারে। বিধায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টিকে অতি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলে মনে করছি।