উত্তরায় বিএনসিসির মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন মেয়র


» শিপার মাহমুদ (জুম্মান) | স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা নিউজ | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ অগাস্ট ২০১৯ - ০৫:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন

উত্তরায় সানবীমস স্কুলে আয়োজিত বাংলাদেশ ন্যাশনার ক্যাডেট কোরের উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এর উদ্বোধন করেলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুর ইসলাম।

ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশার বংশবিস্তার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট-কোর অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচশত ক্যাডেট, বিএনসিসি অফিসার, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীর সমন্বয়ে প্রায় একহাজার সেচ্ছাসেবক উত্তরা ১০ ও ১১ নং সেক্টরের বিভিন্ন জায়গায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উক্ত কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র জনাব মোঃ আতিকুল ইসলাম বাংলাদেশ ন্যাশনার ক্যাডেট কোরের কার্যক্রমে যোগদান করেন।

উদ্বোধনকালে বিএনসিসি ক্যাডেটদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন আমাদেরকে সুনাগরিক হতে হবে। সুনাগরিকের গুণাবলী উল্লেখ করে মেয়র বলেন, একজন সুনাগরিক কখনো রাষ্ট্রের ক্ষতি করে না, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে না, ভূমি দখল করে না, নদী-খাল দখল করে না। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে নগরীকে পরিছন্ন রাখা সম্ভব নয়। ডিএনসিসি জনবল বাড়াচ্ছে, সাথে সাথে নাগরিকদেরকে সচেতন হতে হবে। যথাস্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস আমাদের করতে হবে। নিজ নিজ আবাসস্থল, এলাকা, এলাকার জলাধার নিজেদের পরিষ্কার রাখতে হবে। কোন স্থানেই ৩ দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমতে দেয়া যাবে না।

মেয়র আতিকুল ইসলাম নিজেও ছাত্রজীবনে একজন বিএনসিসি ক্যাডেট ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বিএনসিসির ক্যাডেটরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন দপ্তর, স্থাপনা, বাসা-বাড়ি পরিদর্শন করছি, আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও তৎপর আছেন। যেখানেই অপরিচ্ছন্নতা, নাগরিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এডিস মশার বংশবিস্তার সহায়ক পরিবেশ পাওয়া যাবে সেখানেই জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আধুনিক ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডিএনসিসি সচেষ্ট আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের দ্রুত ও উন্নত সেবা দিতে ডিএনসিসি বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করছে। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মটরসাইকেলে মশক নিধন যন্ত্র স্থাপন করে দ্রুততম সময়ে অধিক এলাকায় মশার ঔষুধ প্রয়োগ করছি। এতে সময় ও লোকবল দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি তরুন প্রজন্মকে মানসিক ও চিন্তাধারায় উন্নত ও আধুনিক হবার আহ্বান জানান।

এসময় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট-কোর এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল বাতেন খান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এডিস মশার মশার বিস্তার আবাস্থল ধ্বংশ করণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার এ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে খাল-নালার ভাসমান ময়লা অপসারণ, জমে থাকা পানিতে ঔষুধ প্রয়োগ, ড্রেনেজ সিস্টেমের পানি প্রবাহ সচল রাখেেত জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার। ক্যাডেটগণ নিজেরা প্রায় ৩০০ শত বাড়ি ও রাস্তাসহ সন্দেহ প্রবণ এলাকা পরিষ্কার করেন। ৪ থেকে ৬ আগস্ট ব্যাপী উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে ঈদের পূর্ব পর্যন্ত এবং দের পরবর্তী সময়ে ন্যাশনাল কাডেট কোর অধিদপ্তর কর্তৃক সারা দেশব্যাপী এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।