উত্তরার কাউন্সিলর প্রার্থীরা কে পেলেন কোন প্রতীক?


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২০ - ০৯:৫৬:৩১ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থীরা কে কোন প্রতীক পেয়েছেন দিনভর এ আলোচনা ছিল সবার মুখে মুখে। সেই সাথে আলোচনায় ছিল কোন কোন ওয়ার্ডে এ দুই দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল এবং তারা কেমন করতে পারেন। সব মিলিয়ে শুক্রবার উত্তরার কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক যেমন ছিল, আবার কে কেমন করবেন এ আলোচনাও ছিল সবার মুখে-মুখে। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটির দুই মেয়র শুক্রবার উত্তরা থেকেই তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করার পর উত্তরার ৪ নং সেক্টরে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচার কাজ শুরু করেন। সেখানেও উত্তরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে সাথে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিএনপির উত্তরা এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উল্লাসসহকারে রাস্তায় মিছিল স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

১ নং ওয়ার্ড : এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী আফসার উদ্দিন খান ঝুড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি গত কয়েক দিন থেকেই উত্তরার বিভিন্ন সুধি সমাজের সাথে মতবিনিময় করে আসছিলেন। অপর দিকে এ ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ঠেলা গাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। বৃহত্তর উত্তরার প্রেসটিজিয়াস এ ওয়ার্ডটিতে নির্বাচন জমার আশা করছেন সাধারণ ভোটাররা। তারা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে নির্বাচনী পরিবেশ ভালো থাকলে লড়াই জমে উঠবে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে। এর বাইরে এ ওয়ার্ডের নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিবিদদের নজর সবছেড়ে বেশি।

৫১ নং ওয়ার্ড : এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরিফুর রহমান। তিনি এখানে ব্যাডমিন্টন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তবে একই ওয়ার্ডে গত উপ-নির্বাচনে উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পাওয়া আবুল হোসেন মেম্বার নির্বাচনী মাঠে লড়াইয়ে আছেন। টিফিন ক্যারিয়ার মার্কা নিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে চান। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবেই তিনি নির্বাচনী মাঠে আছেন, তবে অনেকে মনে করছেন বর্তমান কাউন্সিলরের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাতেই তাকে মাঠে রেখেছেন শরিফের বিরুদ্ধ একটি পক্ষ। এ ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে বিদ্রোহী হিসেবে একজন থাকলেও প্রত্যাহারের শেষ দিনের শেষবেলায় তিনি দল মনোনীত প্রার্থী আফাজ উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠ ত্যাগ করেন। আফাজ উদ্দিন এখানে ঘুড়ি প্রতীকে মাঠের লড়াইয়ে থাকছেন। এ ওয়ার্ডটিতে শেষ পর্যন্ত আরও অনেক ‘ইকুয়েশন’ হতে পারে বলে অনেকের মুখেই শোনা যাচ্ছে।

৫২ নং ওয়ার্ড : এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন গতবারের কাউন্সিলর আলহাজ্ব ফরিদ আহমেদ। তিনি এবারও লাটিম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচন করছেন তরুন যুবনেতা আলমাস আলী। তিনি এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থী হলেও দলের সমর্থনে শেষ পর্যন্ত থাকলে ভালো করতে পারেন।

৫৩ নং ওয়ার্ড : এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন। তিনি এবার লাটিম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। গতবারের বিপুল ভোটে বিজয়ী এ প্রার্থী বিএনপির সম্পদশালী মোস্তফা জামানের বিপক্ষে নির্বাচনের লড়াইয়ে আছেন। মোস্ত্ফা বিএনপি থেকে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপি থেকে জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ আসলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কি করতে পারেন তা এখন দেখার বিষয়। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে তুরাগের ‘বির্তকিত; পরিবারের সদস্য হিসেবে দলের ভেতর বিরোধীতা তাকে সামাল দিয়ে এগুতে হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। দল বিরোধীতার ঝামেলা পিছনে ফেলে নাসির মেম্বার বেশ রাজনৈতিক সুবিধায় আছেন।

৫৪ নং ওয়ার্ড: এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করছেন অত্র এলাকার বার বার নির্বাচিত তরুণ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ। তিনি এবারও ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন। একই সাথে তারই দলের অপর প্রার্থী সোহেল শেখ একপ্রকার মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। এবার তার মার্কা হচ্ছে টিফিন ক্যারিয়ার। এ ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আছেন তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ খোকা। দলের সবাই একসাথে সাথে কাজ করলে তিনিও এবার বাজিমাত করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

৫০ নং ওয়ার্ড: এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন যুবনেতা ডি এম শামীম। তিনি এবার লাটিম প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে নির্বাচন করছেন নাজিম উদ্দিন দেওয়ান। তার প্রতীক হচ্ছে ঘুড়ি। এ ওয়ার্ডটিতে নোয়াখালী অঞ্চলের ভোটার বেশি হওয়ায় দুই প্রার্থীই লড়াইয়ে যেতে পারেন।

৪৯ নং ওয়ার্ড: এখানে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করছেন সফিউদ্দিন ফনো মোল্লা। এবার তিনি ট্রাকটর মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। তার বিপরীতে একই দল থেকে সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ আনিসুর রহমান নাঈম ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে নির্বাচন করছেন দক্ষিণ খান থানা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন সাগর। তার প্রতীক টিফিন ক্যারিয়ার। এখানে দ্বিমূখী লড়াইয়ের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত কার সাথে কার লড়াই হয় এটা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

৪৮ নং ওয়ার্ড: এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে একক প্রার্থীরা লড়াইয়ে নেমেছেন। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করছেন সাবেক দক্ষিণ খান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মিঠু। গত সেশনের কাউন্সিলর বুলবুলকে ঠেকিয়ে তিনি দলের মনোনয়ন নিয়ে আসলেও বুলবুলই তাকে ঠেকিয়ে দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অপর দিকে মোল্লাবাড়ীর বিশাল একটি ভোট ব্যাংক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী আলী আকবর আলী টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকছেন।

৪৭নং ওয়ার্ড: এখানে আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক কাউন্সিলর মোতালেব মিয়া ঝুড়ি প্রতীকে মাঠে থাকছেন। তবে তাকে এবার শক্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপির দুই প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতালেব হোসেন রতন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন তালুকদার মিষ্টি কুমড়া নিয়ে মাঠে নেমে গেছেন। তবে বিএনপির এই দুই প্রার্থীর দিকে নজর রয়েছে অনেকের।
এর বাইরে উত্তর খানের ৪৪ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে ঠেলাগাড়ি প্রতীক মো: শফিক, বিএনপি থেকে আয়নাল মেম্বার ঘুড়ি, ৪৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন ঠেলা গাড়ি প্রতীক ও বিএনপি থেকে জাহাঙ্গীর বেপারি ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া ৪৬ নং ওয়ার্ডে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে দুই প্রার্থী যথাক্রমে ঘুড়ি ও ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।