উত্তরখান মাজারকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২০ - ০৮:৫৬:৩১ অপরাহ্ন

রাজধানীর উত্তরখানে অবস্থিত হযরত শাহ কবির (রহ.) মাজার শরীফকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা মসজিদ, মাদ্রাসা ও দোকানপাট হতে উত্তোলনকৃত মোটা অংকের অর্থ অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি দাবী জানিয়েছেন হযরত শাহ কবির (রহ.) এর বংশধর পরিচয়দানকারী ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী এনামুল হাসান খান শহিদ ।

সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান খান শহিদ জানান, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাৎকালীন কামাল চেয়ারম্যান মসজিদের ইমাম বশির ও বশিরের ছোট ভাই নাজিরকে সাথে নিয়ে একক কর্তৃত্বে শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেট পরিচালনা করেছেন। ২০১৮ সালে এস্টেটের নতুন কমিটি হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সকল ব্যয় নির্বাহ করে ব্যাংক একাউন্টে ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) লক্ষ টাকা জমা আছে। যদি দুই বছরে এস্টেট একাউন্টে পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা জমা হয়, তাহলে বিগত পনের বছরের হিসাব কোথায়? বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এই দীর্ঘসময় ধরে শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেট পরিচালনায় কোন হিসাব-নিকাশের বালাই ছিলনা বলে দাবী করেন এনামুল হাসান খান শহিদ । ২০১৮ সালের মাজার পরিচালনায় তিনি সম্পৃক্ত হওয়ার পর বিগত দিনের হিসাব চাওয়ায় কামাল উদ্দিন চেয়ারম্যান ও মসজিদের ইমাম মিলে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, গত ১৪ নভেম্বর (শনিবার) শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেটের ভেতর একটি কবরের দেয়াল গুড়িয়ে দেয় একটি পক্ষ। কামালের ভাড়াকৃতরা এই হামলার সাথে জড়িত বলে দাবী করেন এনামুল হাসান খান শহিদ । এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ওই কবরটি মূলত শাহ্ কবির (রহঃ) এর সহধর্মিনীর কবর। মসজিদ নির্মাণ প্রারম্ভকালীন সময়ে কবরটিকে আলাদা রেখে মসজিদ নির্মাণ করলেও বর্তমানে কবরটিকে সরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তবে, কবরের পবিত্রতা রক্ষায় এটিকে ঘিরে দেয়াল নির্মাণ করায় পরদিনই একদল বহিরাগত লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্রহাতে কবরের স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় এক সাংবাদিককেও মারধর করা হয় বলে জানা যায়।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান খান শহিদ বলেন, ‘শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তাৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও মসজিদের ইমাম বশিরের কাছে বিগত বছরগুলোর হিসাব চাওয়ায় তারা বিভিন্ন স্থানে আমার নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে মসজিদ ভেঙ্গে মাজার বানানোর কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এর ফলে আমাকে সমাজের চোখে খারাপ প্রতিপন্নের মাধ্যমে তারা মূলত নিজেদের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছে।’

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনটিতে তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ কর্তৃক নানা সময়ে মিথ্যা মামলা, মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হয়।