উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


উত্তরখানে দুই সন্তানসহ মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, রহস্য






রাজধানীর উত্তরখানের একটি বাসা থেকে দুই সন্তানসহ এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়নারটেকের চাপানেরটেক এলাকার একতলা বাসার দরজা ভেঙে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন জাহানারা খাতুন মুক্তা (৪৭), তাঁর ছেলে মুহিব হাসান রশ্মি (২৮) ও প্রতিবন্ধী মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিম (২০)। তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার জগন্নাথপুর গ্রামে।

স্বজন ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গত ৭ মে দুই সন্তানসহ মুক্তা ডাক্তার কামালের বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এক বছর আগে তাঁর স্বামী ইকবাল হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কর্মকর্তা ছিলেন। মুক্তার ছেলে রশ্মি এবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইকবালের মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক বিপর্যয়ে ছিল মুক্তার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যাতে লেখা আছে, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য ও আমাদের আত্মীয়স্বজনের অবহেলাই দায়ী।’

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তিনজনের মধ্যে কারো হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি তাঁদের হত্যা করেছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এ এস এম হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, পুলিশ ময়নারটেকে ৩৪/বি বাসায় গিয়ে প্রথমে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, মা ও মেয়ের মরদেহ পড়েছিল বিছানায়। মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে ছেলের মরদেহ। ঘরের মেঝেতে প্রচুর রক্ত। রক্ত কালো রং ধারণ করেছে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। পাশে ড্রইং রুমের টেবিলে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটটি মোবাইল ফোনসেট দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল। চিরকুটে আরো লেখা আছে, ‘আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পদ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হোক। ইতি জাহানারা বেগম।’

হাফিজুর রহমান আরো বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে জানা যাবে। ঘর ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দরজা ও জানালাও ভাঙা দেখা যায়নি।’

গতরাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করছিল। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উত্তরখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার নাসির  বলেন, ‘রক্ত থাকলেও তাদের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না।’

উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘পচা তিনটি মৃত্যুদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো কমপক্ষে দু-তিন দিন আগের হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’