উত্তরখানে কবর সরানোকে কেন্দ্র করে থামছে না অস্থিরতা


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২০ - ০৬:৩৯:০৪ অপরাহ্ন

উত্তরখানে অবস্থিত হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেট মসজিদের ভেতর একটি কবর সংস্কারকে কেন্দ্র গড়ে বিবাদমান দুপক্ষের বিরোধ কিছুতেই থামছে না। গত ১৬ তারিখ (সোমবার) এস্টেটটি পরিচালনায় বিগত দিনগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটেছে দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান শহিদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেকে হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) এর বংশধর দাবী করেন। সেই সাথে তিনি ওয়াকফ্ এস্টেটটির মোতাওয়াল্লী চেয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান।

এনামুল হাসান খান শহিদের এমন দাবীর প্রেক্ষিতে বিষয়টি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ২০০৪ সালের পর থেকে ওয়াকফ্ এস্টেটটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উািদ্দন। তিনি বলেন, ’এটি (শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেট) একটি লাখারেজ সম্পত্তি, কোন ব্যক্তির না। আর ওদের (শহিদ) ফ্যামিলির তো নয়ই। ওর বাবার নামে কাগজ দেখাইতে কন। জমির রেকর্ডপত্র তোমার বাপ-দাদার নামে কিনা, দেখাইতে কন। একটা কাগজে লেইখা আনলেইতো হবেনা, আমার নাম ওমুক, আমার বাবার নাম ওমুক, দাদার নাম ওমুক…..’

প্রসঙ্গত, গত ১৪ নভেম্বর (শনিবার) শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেটের ভেতর একটি কবরের দেয়াল গুড়িয়ে দেয় একটি পক্ষ। এর একদিন পর সংবাদ সম্মেলন ডেকে কবরের দেয়াল ভাঙার সাথে কামাল চেয়ারম্যান ও ওই মসজিদের ইমামের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবী করেন এনামুল হাসান খান শহিদ। তবে, কবর ভাঙার পেছনে মসজিদের ইমামের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লির সাথে কথা বলে জানা যায়, মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা। যারা কবরের দেয়াল ভেঙ্গেছে তারা কেউই এলাকার ছিলনা।

এদিকে, মসজিদের ভেতর থেকে কবর সরানোর দাবীতে আগামীকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মসজিদ মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ, উত্তরা জোনের ব্যানারে গণজমায়েতের ডাক দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৬ তারিখের সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান খান শহিদ জানান, ওই কবরটি মূলত শাহ্ কবির (রহঃ) এর সহধর্মিনীর কবর। মসজিদ নির্মাণ প্রারম্ভকালীন সময়ে কবরটিকে আলাদা রেখে মসজিদ নির্মাণ করলেও বর্তমানে কবরটিকে সরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তবে, কবরের পবিত্রতা রক্ষায় এটিকে ঘিরে দেয়াল নির্মাণ করায় পরদিনই একদল বহিরাগত লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্রহাতে কবরের স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় এক স্থানীয় সাংবাদিককেও মারধর করা হয় বলে জানা যায়।