ঈদের মাসে ১৫০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স


» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২০ - ০৭:৫৫:২৪ অপরাহ্ন

মহামারি করোনা সংকটের মধ্যেও ঈদের মাসে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এটি আগের মাস এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ৪২ কোটি ডলার বেশি। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ২৪ কোটি ডলার কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘদিন ইতিবাচক ধারায় থাকা এই সূচকটি গত কয়েক মাস ধরে পতনের ধারায় রয়েছে। তবে ঈদের আগে পরিবার পরিজন ও নিকটাত্মীয়ের কাছে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। রেমিটসান্সের এই উধ্বগতির কারণে স্বস্তি ফিরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও।

সাধারণত প্রতি বছরই ঈদের আগে রেমিট্যান্সে গতি আসে। গত বছরের রোজার ঈদের আগে মে মাসে ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টানা কমছে রেমিট্যান্স। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৪৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। এরপরের মাস মার্চে আসে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার; যা গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। আর এপ্রিলে তা আশংকাজনকহারে কমে নেমে আসে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে; যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। এছাড়া এটি গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে সর্বনিম্ম ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। তবে ঈদের কারণে মে মাসে রেমিট্যান্সে আশানুরুপ গতি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম ১১ দিনে ৫১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে, ১৪ মে পর্যন্ত আসে ৮০ কোটি ডলার, ১৯ মে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে। এরপর ৩১ মে পর্যন্ত সেটি বেড়ে হয়েছে ১৫০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে গত মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ডলারের অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময় পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৫০৫ কোটি ডলার। এ হিসেবে মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেশি আছে ১৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা মাত্র ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ করোনাভাইরাসের প্রভাব ব্যাপকভাবে শুরুর আগের মাস গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ শতাংশের বেশি।