উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


ই-কমার্স কেনাকাটায় বাড়ছে প্রতারক চক্র






তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে যাওয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ই-কমার্স। মানুষও ই-কমার্সে পণ্য কোনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। ঘরে বসেই অর্ডার দিলে মিলছে পছন্দের পণ্য। কিন্তু ই-কমার্স প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণা। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন নামে-বেনামে ফেসবুক পেইজ খুলে প্রতারণা করছে একটি অসাধু চক্র। ওই সব পেইজে যেসব পণ্যের ছবি পোস্ট করা হয়, তার ধারে কাছেও থাকে না ডেলিভারি দেয়া পণ্যের মান। শুধু তাই নয়, একটি পণ্য অর্ডার দিলে, সেই পণ্যের টাকা নিয়ে ডেলিভারি দেয় আরেকটি পণ্য।   এমন একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে এ প্রতারক চক্রের ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ওমর আলী (২৪), মো. সজিব শেখ (২২), সোহেল রানা (২০), সৌরভ মজুমদার (২৩), আমিত হাসান (২২), ইসাহাকুল ইসলাম আশিক (২০), আব্দুল করিম (২৪), রিয়াজুল জাহান জিনিল (২২), রাকিবুল হাসান (২১), মো. রাবব্বি (১৯), শরিফুল ইসলাম (২০), বলরাম মন্ডল (২৪) ও মো. হাবিব (২৩)। প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, চক্রটি বিভিন্ন সময় ফেসবুক পেইজ খুলে চাকচিক্য সব পণ্যের ছবি পোস্ট দেয়। এসব ছবি দেখে ক্রেতারা যখন অর্ডার দেয়, তখন তাদের ডেলিভারি দেয়া হয় নিম্নমানের পণ্য। যার বাজার মূল্য দুই’শ বা আড়াইশ টাকা। শুধু তাই নয়, তাদের ফেসবুক পেইজে দেয়া দামি ফোনের অর্ডার দিলে সেখানে মিলে হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম দামি ফোনের।

ডিবির সূত্র জানায়, এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা আলাদাভাবে তাদের প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এমন অভিযোগ আসে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের কাছে। অভিযোগের সূত্র ধরে শুটিং ইনসিডেন্ট টিম ইনচার্জ এসি আশরাফউল্লাহর নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর মৌচাক এলকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী উপকমিশনার আশরাফউল্লাহ বলেন, এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময় ফেসবুক পেইজে চাকচিক্য পণ্য পোস্ট করে। যা বাস্তবের পণ্যের সঙ্গে ন্যূনতম মিলও থাকে না। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল, তাদের কাছে কেউ ২০ হাজার টাকার ফোন অর্ডার করলে, তারা গ্রাহকদের দেয় ৫০০ বা ৬০০ টাকা দামের নকল ফোন। শুধু তাই নয়, কেউ গাউনের অর্ডার দিলে তাদের দেড়শ বা দুইশ’ টাকার কাপড় ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে নিম্নমানের পণ্যের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, দিচ্ছি দিবো বলে সময় অতিবাহিত করে। পরে ফোন এবং নিজেদের ফেসবুক পেইজটি বন্ধ করে দেয় এই চক্র। আবার নতুন করে নতুন সিম এবং ফেসবুক পেইজ খুলে আবার নতুনভাবে তারা ব্যবসা শুরু করে।

এদিকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৯১টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, ১টি কম্পিউটার, ১টি প্রিন্টার, নিম্নমানের ৩০টি শাড়ি, ১০টি থ্রিপিচসহ বিভিন্ন নিম্নমানের পণ্য এবং প্যাকেজিং মালামাল জব্দ করা হয়।

প্রতারক চক্রের সদস্যদের জিঙ্গাসাবাদে জানা গেছে, তারা ফেসবুকে মিম ফ্যাশন, নিউ ফ্যাশন বিডি, কেজে ফ্যাশন, রৌজ ফ্যাশন বিডি, বিক্রয় বাজার বিডি, ইন্ডিয়ান থ্রিপিস গ্যালারি, সাদমার্ট বিডি, এসএম ফ্যাশন, স্টাইল জোন, এমএজ ফ্যাশন, সিগন্ধা ফ্যাশন, সানজু ফ্যাশন, শাড়ি হাউজ, বিশ্ববাজার, ব্র্যান্ড শপসহ বিভিন্ন পেইজ খুলে তারা গুগল থেকে ছবি ডাউনলোড করে এডিট করে পেইজে পোস্ট করে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতো। ক্রেতারা তাদের কাছে যে পণ্যই অর্ডার করুক, অর্ডারকৃত পণ্য কখনো ক্রেতাদের ডেলিভারি করে না। শুধু তাই নয়, প্রায় সময় খালি বাক্স স্কচটেপ মুড়িয়ে পাঠিয়ে দেন ক্রেতাদের কাছে।

এ নিয়ে গত ২২শে জুন নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। ওই মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ফেসবুক পেইজ ‘ফ্যাশন টাচ’ থেকে নীল এবং বেগুন রঙয়ের দু’টি গাউন অর্ডার করেন তিনি। গত ২৭শে এপ্রিল এ্যালিফেন্ট রোড গাউসিয়া সংযোগ সড়ক সংলগ্ন এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করে পণ্যটি সংগ্রহ করেন। কিন্তু পণ্য দু’টি বাসায় এনে দেখেন গাউনের পরিবর্তে দু’টি নিম্নমানের শাড়ি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের ফোন দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা বলা হলেও পরে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এসব প্রতারণা নিয়ে ই-কর্মাস ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন প্রতারক চক্রের কারণে অনলাইন শপিং থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ক্রেতারা। আর এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীরা। প্রতারক চক্রের মন্দ কাজের প্রভাব পড়ছে অন্যদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড