ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর রাষ্ট্রদর্শন ও রাষ্ট্রনীতি


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২০ - ০৭:১২:০৭ অপরাহ্ন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বাধিক অালোচিত ইসলামী রাজনৈতিক দল।দলটি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্টিত হয়েছিল।প্রতিষ্টাকালীন দলটির নাম ছিল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন যা ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন কতৃক বাধ্যবাধকতার কারণে নাম পরিবর্তন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ করা হয়েছছে।প্রতিষ্টাতা আমির মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম রহ ইসলাম,দেশ, মানবতা, ও স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করার তাগিদেই দলটি প্রতিষ্টা করেন।তিনি নিছক ক্ষমতার মোহে কোন জোটের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়নি। এই কারণে তাকে সইতে হয়েছে না অপবাদ।ইসলামী দল সমূহ নিয়ে গঠিত সর্ববৃহৎ ঐক্যের প্লাটফরম ইসলামী ঐক্যজোট যখন জোটের শর্তভঙ্গ করে চারদলীয় জোটে যোগ দেয় তখন পীর সাহেব চরমোনাই রহ এর নেতৃত্বাধীন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ইসলামী ঐক্যজোট থেকে বের হয়ে যায়।শুরু করে একলা চলো নীতিতে আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চা।প্রতিষ্টতা আমির মরহুম পীর সাহেব চরমোনাই কে সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেছিল,আপনি পীর হয়ে কেন রাজনীতি করেন? তখন তিনি চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন যা যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে অাছে। তিনি বলেছিলেন,যে রাজনীতি করেনা তিনি পীর হয় হয় কি করে? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন। যেমনটা দিয়েছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটল তার গুরু প্লেটো কে।বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটো তার ছাত্র এরিস্টটল কে প্রশ্ন করেছিল কোথায় প্রভু আছে?? এরিস্টটল উত্তর না দিয়ে বলেছিল, স্যার আপনি বলেন কোথায় প্রভু নাই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্টার পর থেকে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে ইসলাম,দেশ, মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে আসছে।দলটির প্রতিটি নেতা কর্মী ইসলামের জন্য যেমন জীবনবাজী রাখতে প্রস্তুত ঠিক তেমনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভোমত্ব রক্ষায়ও সেভাবেই প্রস্তুত। ২০০৬ সালের ২৫ নভেম্বর প্রতিষ্টাতা আমির মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম এর ইন্তেকাল হলে দলের শূরা সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আমিরের দায়িত্ব নেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।তিনি সাবেক আমিরের মতই ক্ষমতার মোহে কোন জোটে যায়নি।আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেশপ্রেমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের মাথায় তিনি দেশের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন।২০০৯ সালে ভারত আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গৃলি প্রদর্শন করে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার ঘৃণ মানসে টিপাইমুখে বাধ দিতে শুরু করে।সেই মুহুর্তে রাজপথে নেমে আসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি দেশব্যাপি আন্দোলনের ডাক দেন ভারতের টিপাইমুখে বাধ দেওয়ার প্রতিবাদে।ঘেরাও করা হয় ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস। তাতেও কাজ না হলে ঘোষণা দেন ভারতের টিপাইমুখ অভিমুখে তিন দিন ব্যাপি লংমার্চের। #সেই লংমার্চে সমর্থন জানান দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল।আওয়ামী পন্থী রাজনৈতিক দল আর জামায়াত ছাড়া সেই লংমার্চে বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ,ইসলামী ঐক্য আন্দোলনসহ বিভিন দলের সমর্থন ও দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রণ ছিল। ২০০৯ সালের ২৬,২৭ ও ২৮ ডিসেম্বরে ভারতের টিপাইমুখ অভিমুখে লংমার্চ করেন পীর সাহেব চরমোনাই। সেই লংমার্চের পর পর ভারত টিপাইমুখে বাধ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।এতে দেশ মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা পায়।কিন্তু ভারত এখনও বাংলাদেশের ক্ষতি করেই চলছে।সাম্প্রতিক দেশবিরোধী চুক্তি, আবরার ফাহাদ হত্যা,কাশ্মীর ইস্যু আর ভারতে মুসলিম নির্যাতনে সদা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।ভারতের গণমাধ্যমে এখন ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি গুলোকে হাইলাইট করা হয়।তাদের অন্তরে এখন একটি বিষয় জেঁকে বসেছে তাহল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভারত বিরোধী প্রধান শক্তি।আমার জানামতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভারত বিরোধী নয় বরং বিজেপি সরকারের জুলুম ও অনৈতিক কাজের বিরোধী।

মিয়ানমার, চীন,ফিলিস্তিন,কাশ্মীরে মুসলমানদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।২০১৩ সালে মিয়ানমারে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঘোষিত লংমার্চের শতভাগ প্রস্তুতি থাকা স্বর্থেও তখনকার হেফাজতে ইসলামের নাস্তিক বিরোধী লংমার্চে সমর্থন ও অংশগ্রহণের তাগিদে সেই লংমার্চ স্থগিত করা হয়েছিল।২০১৬ সালের ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর মিয়ানমারে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে আবারো লংমার্চের ঘোষণা দেয় পীর সাহেব চরমোনাই। লংমার্চে অংশ নিতে আসা লাখ নেতা কর্মী ঢাকায় জড়ো হয়। সরকার সেই লংমার্চ নিয়ে মিয়ানমার অভিমুখে যেতে দেয়নি।লাখ জনতার সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ঢাকায় সমাপ্তি ঘোণা করেন।লংমার্চে অংশ নিতে আসা ক্ষিপ্ত জনতা ঢাকায় সামান্যতমও বিশৃঙ্খলা করেনি যা থেকে সরকার ও প্রশাসন বুঝতে পেরেছে ইসলামী আন্দোলন আসলেই শান্তিপ্রিয় দেশপ্রেমি দল।চলতি বছরের ৩০ জুলাই ভারতে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।মিছিল নিয়ে এক কিলোমিটার না যেতেই পুলিশের বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি। তখন নেতা কর্মীরা বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।আমিরের নির্দেশ আসতেই সবাই শান্ত হয়ে যায়।আমিরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে নেতা কর্মীরা।আর প্রতিষ্টাতা আমির থেকে বর্তমান আমির প্রায় সময় বলে তারা রাজনীতিকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করেছে ক্ষমতা দখলের জন্যে নয়।

দেশের কল্যাণে রাজনীতি করছে দলটি।কোন জোটে না থাকা দলটি সকল রাজনৈতিক দলের ভাল কাজের মূল্যায়ন আর অন্যায় কাজের বিরোধীতা করে আসছে।২০১৫ সালে বিএনপি জামায়াতের দেশব্যাপি জ্বালাও পোড়াও এর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।দেশব্যাপি শান্তি ফেরাতে ঢাকায় বিশ কিলোমিটার লম্বা সাদা পতাকা হাতে পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বে লংমার্চ করেছেন।আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিরও কঠোর সমালোচনা করে দলটির নেতারা।তা স্বর্থে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষেই তাদের অবস্থান দেখা যায় মানবতার খাতিরে।যেমন চলতি বছরের ২৬ মার্চ বরিশালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে দলের নায়েবেে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদারতার পরিচয় দেওয়ার আহবান করেছেন।যা দলটি যে মানবতাবাদী ও রাজনৈতিক সহাবস্থান চাই তার জ্বলন্ত প্রামাণ।গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠে বিশেষ স্বাক্ষাতকারে দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে শুধু দলীয় ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবেনা বরং সব দলের ঐক্যের ভিত্তিতে তারা দেশ পরিচালনা করবে।সব দলের অংশগ্রহণে দেশ পরিচালিত হবে।স্বাধীনতার পর থেকে কোন দল এমন উদারতার পরিচয় দিতে পারেনি যা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেদেশ দিয়েছে।ক্ষমতার ভাগ সহজে কাউকে কোন সরকার দিতে চাইনি এবং ভবিষ্যতে দিবেও না।এত উদারতার মানে হল দলটি দেশের কল্যাণ চাই নিছক ক্ষমতা নয়।এতে প্রমাণিত হয় দলটি ইসলাম, দেশ,মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী