মশিউর রহমান টুটুল l ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি মশিউর রহমান টুটুল l ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি


ইসলামপুরে বানবাসীদের মাঝে এনজিওর কোন কার্যক্রম নেই






জামালপুরের ইসলামপুরে এবারের রেকর্ড ভঙ্গ বন্যায় মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করলেও কোন এনজিও সংস্থা কার্যক্রম এখনো চোখে পড়েনি। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নের মানুষগুলো শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ এবং পৌরসভা ও পূর্বাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের ৮০ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যা দূর্গত মানুষদের খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিনিধি দল প্রতি নিয়তই খোজ খবর রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করলেও উন্নয়ন সংঘ ব্যতিত কোন এনজিও এখনো সহযোগীতা করেনি।

এদিকে শুকনো খাবার,শিশুখাদ্য সহ গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিলেও অধ্যবদি পর্যন্ত কোন এনজিও প্রতিনিধিকে ভানবাসী মানুষের কোন ত্রান ও সহযোগীতা করতে দেখা যায়নি। উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় বিভিন্ন আশ্রিয় পয়েন্টে গিয়ে ভানবাসীদের মুখে এসব কথা শুনা যায়।

চিনাডুলী ইউনিয়নের বামনা সড়কে আশ্রিত জামেলা খাতুন জানান- খালি এমপি আর চেয়ারম্যান আহে,আর কেউ আহেনা। এমন আক্ষেপ নিয়ে আশ্রিয় সুলতানা,রাকিয়া সহ কয়েকজন এসব কথা বলেন। এছাড়াও বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা সড়কে আশ্রিত একাধিক ভানবাসীরা একই কথা জানান। এ ব্যাপারে চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ সালাম ও আঃ মালেক জানতে চাইলে তারা জানান-এখন পর্যন্ত কোন এনজিও ত্রান সামগ্রী নিয়ে আসেনি। তারা সকলকে ভানবাসীদের পাশে দাড়ানোর অনুরোধ জানান।


ইসলামপুরে ভয়াবহ বন্যায় মৎস্য চাষীরা দিশেহারা

উজানের ঢলের পানি এবং টানা বর্ষণে সৃষ্টি বন্যায় জামালপুরের ইসলামপুরে অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এতেকরে উপজেলার তিনলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে উপজেলার প্রায় ২হাজার পুকুরের মাছ রাতারাতি বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মৎস্য চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একদিকে নিজ বাড়ীঘর,আবাদী জমির ফসল অন্যদিকে ব্যবসার পুজি সকল কিছুই ভয়াবহ বন্যায় ভেসে যাওয়ায় একাধিক চাষী হতাশ প্রকাশ করেছে।

দুরমুট খুদিয়াকান্দা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত লিক্সরা ফিসারিজ ফার্মের মালিক মাহবুবা নাছরিন বলেন-নিজে আত্ব নির্ভরশীল হওয়ার জন্য ২০একর জমি ভাড়া নিয়ে ১৬সনে শুরু করি। হঠাৎ ১৭সালে বন্যায় সকল মাছ রাতারাতি বন্যায় ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৬০লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পড়েও আবারো শুরু করলেও এবারের রাতারাতি ডুবে যাওয়ায় প্রায় ৭৫লাখ টাকার মাছ ভেসে যায়।

এছাড়াও পাথশী ইউনিয়নের মোজাআটা গ্রামের শফিকুল ইসলাম,রসুল মিয়া,সদর ইউনিয়নের ইলিয়াছ আলী, ছামিউল হক,বেলগাছা ইউনিয়নের আব্বাস আলী,চিনাডুলী ইউনিয়নের ফারুক মিয়া,আক্কাস আলী,আঃ আজিজ,নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রেজাউল করিম,সোনাহার হোসেনসহ উপজেলার মৎস্যচাষীরা তাদের বুকফাটা আর্তনাদ জানিয়েছেন। তারা মৎস্যচাষীদের ক্ষতিগ্রস্থের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার প্রধানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।