ইসলামপুরে দশায়ইন নদী খেয়া পারাপারে ভোগান্তি দশ গ্রামের মানুষ


» মশিউর রহমান টুটুল l ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি | | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৯ - ০৮:৩৮:১৯ অপরাহ্ন

জামালপুরের ইসলামপুরে দশায়ইন নদীর খেয়া পারাপারে ভোগান্তি।এ পারে বেনুয়ার চর বাজার, অন্যপারে প্রায় দশটি গ্রাম। দশায়ইন নদীর এই দুই পারের মানুষের যাতায়াতের  ভরসা খেয়া নৌকা। স্থায়ীনীয় এমপি মহুদয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বহুবছর ধরে কখনো নৌকা আবার কখনো কোমর পানিতে ঝূকিপূর্ণ ভাবে পারাপার হচ্ছে প্রায় দশটি  গ্রামের মানুষ। যুগ যুগ ধরে এভাবেই দুর্ভোগ-ভোগান্তিতে বেনুয়ার চর বাজার সহ অন্তত ১০টি গ্রাম হরিণ ধরা , সাত নং চর,৬নং চর,৫নং চর,৪নং চর,ডিগ্রীচর,টাবুর চর,আগ্রাখালী হাজার হাজার মানুষ নানা পেশাজীবী,কৃষক,স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তি।

গতকাল (শনিবার)সরেজমিনে দেখা গেছে,বেনুয়ার চর ও হরিণ ধরা ইসলামপুর অপরদিকে শেরপুর সদর উপজেলার শেষ সীমানায় প্রবাহিত খৈয়া ঘাট।দুই উপজেলার কৃষকের আবাদি জমি,গ্রামের মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ফসল কাটামারী থেকে। এই দুই পারের মানুষের সরাসরি স্থল যোগাযোগ কোন ব্যবস্থা না থাকায় নদী পথেই তাদের যাতায়াত করতে হয়। বেনুয়ার চর হরিণ ধরা গ্রামে দশয়ইন নদীর ওপর সেতু না থাকায় পারাপারে ভোগান্তি এবং একমাত্র  ভরসা খৈয়া নৌকা। যুগ যুগ ধরে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে কোমর পানি দিয়েই পারাপার হতে হয় অন্তত দশটি গ্রামের মানুষের।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,ইসলামপুর ও শেরপুর উপজেলার মানুষকে নদী পার হয়েই যেতে হয় হাট-বাজারে,স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে দুর্ভোগ যেন চিরদিনের সঙ্গী দুই পারের হাজারো মানুষের।

স্থানীয়দের অভিযোগ,কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগের বিকল্প কোন পথ নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর দাবি জানালেও পেয়েছে শুধু জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস। হাজারো মানুষকে নদী পারাপার হতে হয় বাধ্য হয়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের।

শিক্ষার্থীরা বলেন,‘ব্রিজের অভাবে নদী পারাপারে তাদের কষ্ট করতে হয়। প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে সঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে না পারায় লেখাপড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে’।

বেনুয়ার চর বাজার ও হরিণ ধরা বাজার ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করতে নৌকা পার হয়ে হাট-বাজারে যেতে হয়। , ভ্যান করে খৈয়া ঘাট পর্যন্ত বা বাইসাইকেল বোঝাই করে এসব পণ্য পারাপার করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। তাছাড়া বিকল্প পথে ঘুরে হাটে যেতে অতিরিক্ত অর্থের সাথে সময়ও নষ্ট হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে তাদের আরও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এভাবে নৌকা পারাপারে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনাও’।

চরপুটিমারী ইউনিয়ন আঃমীলীগের সভাপতি ও অত্র পরিষদ চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান শুরুজ মাষ্টার স্থানীয় বাসিন্দা  বলেন, ‘এই খেয়া নৌকা পারাপার শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চরম দুর্ভোগে। কিন্তু এ বছর বন্যা প্রবল স্রোতে আরো গভীরতা বেড়ে গেছে।এলাকার মানুষের যোগাযোগ উন্নয়নে জন্য দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন’ হয়ে পড়েছে।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ‘দুই উপজেলার সীমানা ঘেঁষে নদীর অবস্থানের কারণে সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা। তবে আর কোন আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি নয়। হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ব্রিজ এবং রাস্তা দুটাই বাজেট হয়েছে। এখন শুধু টেন্ডার হবে তার পরেই ব্রীজ ও রাস্তা নির্মাণ কাজ চলবে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই সেতুটি নির্মাণ হলে দুই উপজেলার মানুষের উন্নত যোগাযোগের সাথে বাড়বে সু-সম্পর্ক। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন ও কৃষকদের উৎপাদিত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারজাত করণেও দুর্ভোগ কমবে।