ইফাদের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৯ - ০৬:৪৭:০৩ অপরাহ্ন

ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১২৪ কোটি ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ১৯৮ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

আগস্ট, ২০১১ থেকে এপ্রিল, ২০১৪ মেয়াদের সম্পাদিত পুনঃনিরীক্ষায় এ বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৪ মার্চ ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টসের নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নিরীক্ষা দল গঠন করা হয়। দলটি ২০১৫ সালের ২ আগস্ট নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়।

সেখানে তারা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ১৯৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছিল। আর এ টাকা যথাসময় পরিশোধ না করায় প্রাথমিক হিসাবে ১১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮০ টাকা সুদ নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করে।

তবে প্রথম নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়নি এমন সংবাদ থাকায় এবং ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকায় ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা এবং তদন্ত অধিদফতরকে পুনঃনিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেয় এনবিআর।

পুনঃনিরীক্ষায় ভ্যাট তদন্ত অধিদফতর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মোট ৫৭ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৪ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করে। এ টাকার সুদ ৬৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩০ টাকাসহ মোট ১২৫ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৪ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে উল্লেখ করে তদন্ত অধিদফতর।

দফতর সূত্রের দাবি, প্রথম নিরীক্ষায় উদঘাটিত সুদসহ ফাঁকি দেয়া ভ্যাটের পরিমাণ ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৬ টাকা। আর এ টাকার দাবি চূড়ান্ত না করা সত্ত্বেও কোম্পানিটি ফাঁকি দেয়া ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ১৯৬ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করে দেয়। তাই এ টাকা বাদ দিয়ে সুদসহ মোট ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ১২৪ কোটি ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ১৯৮ টাকা। আর ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টসের কাছ থেকে এ টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছে অধিদফতর।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নিরীক্ষা দলের করা প্রথম নিরীক্ষায় যোগানদার সেবা খাতে উৎস ভ্যাট কর্তনের হিসাব নিরূপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল খাত আমলে নেয়া হয়নি, যথাযথ সেবা কোড ব্যবহার করা হয়নি, ভ্যাট রেয়াত গ্রহণ করার বিষয়টি যাচাই করে বাতিলের বা সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়নি এবং নিরীক্ষা ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বিক্রয় মূল্য আমলে নেয়া হয়নি।

পুনঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির নিরীক্ষা মেয়াদে বিভিন্ন সময়ে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে কাঁচামাল কিনে উৎপাদনে ব্যবহার করছে।

তবে এনবিআরের বিভিন্ন এসআরও অনুযায়ী অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে কাঁচামাল কেনার বিপরীতে যোগানদার সেবায় নির্দিষ্ট হারে উৎস ভ্যাট কর্তনের বিধান থাকলেও ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস তা পরিপালন করেনি।

আর এ খাতে ৩৯ লাখ ২০ হাজার ৩৭৭ টাকা ভ্যাট ফাঁকি এবং এর উপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ করে মোট সুদ ৩২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯৬ টাকা। অর্থাৎ সুদসহ মোট ভ্যাট ফাঁকি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৩ টাকা। আইন অমান্য করে অতিরিক্ত ৭ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৬ টাকা ভ্যাট রেয়াত নিয়েছে কোম্পানিটি।

এদিকে, নিরীক্ষা ফার্মের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তদন্ত দল দেখতে পায়, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখিত সরবরাহ মূল্যের চেয়ে ভ্যাট-১৯ এ মাসিক দাখিল পত্রে সরবরাহ মূল্য কম প্রদর্শন করেছে।

২০১১-১২ থেকে ২০১৩-১৪ হিসাব বছর পর্যন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি মোট ৫১৭ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকার পণ্য সরবরাহ করেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ট্যারিফ মূল্যের বিক্রিত পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য পৃথকভাবে দেখানো হয়নি। ফলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোম্পানির কাছে বিক্রিত পণ্যের ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ মূল্য আলাদাভাবে দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়।

চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির পাঠানো তথ্য পর্যালোচনায় ট্যারিফ মূল্যে সরবরাহ করা পণ্যের মূল্য বাদ দিয়ে তদন্তদল দেখতে পায়, কোম্পানিটি ভ্যাট দাখিল পত্রে ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ ২২ হাজার ৮৫৪ টাকার পণ্য সরবরাহের মূল্য কম দেখিয়েছে।

এতে কোম্পানিটি ৫৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫০ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এর সুদ ৬৭ কোটি ৭৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৩ টাকাসহ মোট ভ্যাট ফাঁকি ১২৩ কোটি ২২ লাখ ৫২ হাজার ২৮৩ টাকা।

এ ছাড়া নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী উৎস ভ্যাট বাবদ সুদসহ মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৩৮ টাকা ফাঁকি দিয়েছে ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস।

উত্তরা নিউজ/এস.এম,জেড