ইউএনও’র হস্তক্ষেপে লোহার শিকলমুক্ত হলো মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ - ০৬:০৯:৪৯ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: আজিজুল, ইফাদ ও ইয়াসিন একটি মাদ্রাসার হেফজখানার ছাত্র। এদের প্রত্যেকের বয়স তেরোর কোঠায়। তাদের পা দিনের ২৪ ঘন্টাই লোহার শিকলে তালাবন্দি। প্রতিদিনকার পড়ালেখা, খাওয়া, টয়লেট, গোসল, ঘুম সবই হচ্ছে লোহার শিকলে বাধা অবস্থায়। ঘটনাটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলাধীন তুমিলিয়া ইউনিয়নের ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসাটির সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন মো. আরিফুল্লাহ। বর্তমানে ওই মাদ্রাসায় ৭৫ জন ছাত্র ,এদের মধ্যে ১৮ জন এতিম ছাত্র। এ যাবৎ মাদ্রাসাটি থেকে ২৭ জন হাফেজ পাগড়ী নিয়েছে। মাদ্রাসাটিতে রয়েছেন মোট ৫ জন শিক্ষক। এদের মধ্যে ৩ জন হাফেজ হাফিজি শিক্ষা দেন বাকী ২ জন বাংলা পড়ান। মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য পরিচালনা কমিটি রয়েছে। মাদ্রাসাটি মূলত যাকাত, ফিৎরা ও লিল্লাহ ফান্ডে চলে ।

লোহার শিকলে তালা দেওয়া মো. আজিজুল ইসলাম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিনের ছেলে, মো. ইফাদ মিয়া একই এলাকার প্রবাসী কাওছার মিয়ার ছেলে ও মো. ইয়াসিন কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের টেক মানিকপুর গ্রামের মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে।

লোহার শিকলে তালা দেওয়ার ব্যাপারে ওই তিন ছাত্রের সাথে কথা বললে ওরা জানায়, না বলে চলে যাওয়ায় তাদের বাবা-মা পায়ে লোহার শিকল দিয়ে তালা দিয়ে একটি চাবি নিয়ে গেছে এবং অন্য একটি চাবি মাদ্রাসা সুপারের কাছে রেখে গেছে। শিক্ষক হাফেজ মো. সিফাত হোসেন জানালেন, তারা মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। এ কারণে তাদের বাবা-মা শিকল দিয়ে তালা মেরে রেখে গেছেন।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম রানু মাস্টার বলেন, পায়ে শিকল ও তালা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। মাদ্রাসার সেক্রেটারী রতন মাস্টার বলেন, শিক্ষার্থীদের পায়ের শিকল খুলে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সুপার বলেন, ছাত্ররা চলে যায় এজন্য তাদের বাবা-মা শিকল দিয়েছে। তারপরও বলা হয়েছিল যারা চলে যায় চলে যাক, কিন্তু কারো পায়ে শিকল বা তালা দেওয়া যাবে না। কিন্তু তারপরও মাদ্রাসা সুপার কথা শোনেনি।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার মো. আরিফুল্লাহ বলেন, এতে তার কিছুই করার নেই। ওই ছাত্রদের অভিভাবকরাই শিকল দিয়ে পায়ে তালা দিয়েছেন।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেনকে সাথে নিয়ে ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় যান। সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান এবং ওই মাদ্রাসার হেফজেখানায় অধ্যয়নরত কিশোর আজিজুল, ইফাদ ও ইয়াসিনের পায়ের তালাবদ্ধ লোহার শিকল মুক্ত করেন। পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে সতর্ক করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউএনও শিবলী সাদিক বলেন, ঘটনাটি জেনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিকলে বাধা ছাত্রদের শিকলমুক্ত করি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবের আলমকে আহ্বায়ক করে ও সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নুর-ই-জান্নাতকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।