আমেরিকা-তালিবান শান্তি আলোচনা শুরু : ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছে তালিবান


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০১৯ - ০৮:১২:২৮ অপরাহ্ন

মস্কোতে শান্তি আলোচনায় আমন্ত্রিত আমেরিকা ও তালিবান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন আফগান যুদ্ধ বন্ধে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে সক্ষম একটি খসড়া প্রস্তুত করার ব্যাপারে তারা ‘কার্যকর ভূমিকা’ রাখবেন। খসড়াটি চলমান রাউন্ড টকেই সংযুক্ত করা সম্ভব হবে বলে উভয়পক্ষই আশাবাদি।

প্রায় আঠারো বছর ধরে চলমান আফগান যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আমেরিকা। বছরব্যাপী দীর্ঘ শান্তি আলোচনার সপ্তম রাউন্ডের বৈঠক চলছে এখন। প্রথম দিনের বৈঠকে বিরতিহীন দীর্ঘ বারো ঘন্টার আলোচনায় একটি খসড়া প্রস্তুত করতে চেষ্টা করা হয়।

তালেবান প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেন, ‘বৈঠকগুলো আশাপ্রদ হচ্ছে। চলমান বৈঠকেই একটি ভালো সমাধান বের হবে বলে প্রত্যাশা করছি’।

আমেরিকা-তালিবান আলোচনায় মূলত দুটি বিষয় মূখ্য হয়ে উঠছে। আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে কোনো আন্তর্জাতিক বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে তালেবানের প্রশ্রয় থাকবেনা এবং এর বিনিময়ে আমেরিকা ও সম্মিলিত বাহিনীর সদস্যরা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে।

গত সপ্তাহে কাবুল সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, আলোচনায় সত্যিকার অগ্রগতি হয়েছে। আমরা সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহারে সম্মত আছি। এমনকি আমি স্পষ্ট করে বলছি সেনা প্রত্যাহারের জন্য আমরা কোনো সময়ের শর্তও দিচ্ছিনা।

তবে আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান জালমে খলিলজাদ বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দল একটি সমন্বিত চুক্তি চায়। স্থায়ী যুদ্ধ বিরতি ও টেকসই শান্তির জন্য আন্ত- আফগান আলোচনা।
কিন্তু তালেবান বরাবরের মতই নাকচ করে দিয়ে বলেছে, তারা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও আন্ত আফগান আলোচনার জন্য কেবল তখনই প্রস্তুত থাকব যখন আফগানিস্তান থেকে সমস্ত বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

এদিকে শান্তি আলোচনার সময়ে আফগানিস্তানে তালিবান হামলা ও সরকারি বাহিনীর নিহতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

দক্ষিণ কান্দাহারে মারুফ জেলায় গত শনিবার তালিবানের হামলার পর সেখানে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। কান্দাহার প্রদেশের পুলিশ প্রধান তাদিন খান ভয়েস অফ আমোরিকাকে জানিয়েছেন, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তালেবানের হামলায় আহত ও নিহত হয়েছেন।

অফিসিয়াল সূত্রে জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের স্বাধীন ইলেকশন কমিশনেরও আটজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

তালিবান সূত্র দাবী করেছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে এবং আরো এগারোজনকে গ্রেফতার করেছে। মারুফ জেলায় হামলা শুরু করা হয়েছিল আমেরিকার একটি মিলিটারি হাম্ভির উপর একজন তালেবান সদস্যের আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে।

এক বিবৃতিতে তালেবান জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই জেলা হেডকোয়ার্টার দখল করে ফেলেছে। তবে পুলিশ প্রধান তালিবানের দাবীকে প্রত্যাখান করেছেন। স্বাধীন সূত্রগুলোর মাধ্যমে কোনো দাবীরই সত্যতা প্রমাণ করা এখনো সম্ভব হয়নি।

তালেবান সদস্যরা তাজিকিস্তান সীমান্তে উত্তর কুন্দুজ প্রদেশেও একটি সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। খবরে প্রকাশ ১২ জনেরও বেশী সৈন্য নিহত হয়েছে এই হামলায়।

উত্তরা নিউজ/এস,এম,জেড