আমি সাধারণত দৈনিক যে পরিমাণ পানি পান করি (১.৫-২ লিটার) তার চেয়ে যদি দ্বিগুণ পান করি তাহলে কী হবে?


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ - ১২:০০:২৪ অপরাহ্ন

আপনি কি জানেন যে একবার ২৮ বছর বয়সী একজন নারী প্রায় ৭ লিটার পানি পান করার পর মারা গিয়েছিলেন? জ্বী। পানি পান করার কারণে মারা গিয়েছিলেন। প্রায় ৭ লিটার পানি পান করার পর প্রথমে তার প্রচুর মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব হলে তার স্বামী তাকে বাসায় নিয়ে গেলে সে তার বিছানায় অজ্ঞান হয়ে যান এবং একের পর এক পাকড়/খিচুনি দিতে থাকেন। অনেকের মতে বাসায় আবার অনেকের মতে অ্যাম্বুলেন্সেই অবশেষে তিনি মারা যান। ঠিক একইভাবে ৪৭ বছরের একজন নারী অতিরিক্ত পানি পান করার পর মারা গিয়েছিলেন। চলুন আগে দেহের কিছু কার্যকলাপ সম্পর্কে জেনে আসি। তাহলেই নারীর মৃত্যুর রহস্য সমাধান করা যাবে।

(যেহেতু সবাই মোটামুটি জানে যে অতিরিক্ত পরিমাণে পানি পান করার ফলে ধীরে ধীরে কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। তবে যেহেতু এটা একটা লম্বা সময়ে হয়ে থাকে তাই এটা নিয়ে কথা না বলে, আপনি অতিরিক্ত পরিমাণ পান পান করে ফেললে সাথে সাথে কিংবা ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আপনার দেহে কি ঘটবে সেটা নিয়েই কথা বলতে চাই।)

সাধারণত দেহে কিডনির কাজ হলো আপনার রক্ত থেকে অতিরিক্ত যেকোনো কিছু মল মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেওয়া। কিন্তু যদি কেউ অতিরিক্ত পানীয় পান করেন যা কিডনির পক্ষে প্রক্রিয়া করা সম্ভব না (ঘণ্টায় প্রায় ১ লিটারের মত) তবে অতিরিক্ত পানি আপনার দেহে অবস্থিত কোষের মধ্যে প্রবেশ করে। কোষে সোডিয়াম এর পরিমাণ প্রতি লিটারে ১৩৫-১৪৫ মিলিমোল থাকা প্রয়োজন। সাধারণত কোষে পানি ও লবণের মাত্রা খুবই ভালোভাবে ভারসাম্যে থাকে। কোষের বাইরে থাকা ছোটো ছোটো ছিদ্র দিয়ে অনবরত পানি এবং সোডিয়াম সমান মাত্রায় প্রবেশ করে এর ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু যখন কিডনি অতিরিক্ত পানীয় দেহ থেকে বের করতে পারে না তখন সেই অতিরিক্ত পানি কোষের ভিতর প্রবেশ করে এবং কোষে সোডিয়ামের জায়গা দখল করে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং পাশাপাশি কোষগুলো ফুলে উঠে। সাধারণত এটা তেমন একটা সমস্যা না যেহেতু আমাদের দেহ মোটামুটি অনেকটুকুই প্রসারণ করতে পারে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো মস্তিষ্ককে নিয়ে। কারণ এর আশপাশে থাকা খুলির হাড়ের কারণে এ এতটা প্রসারিত হতে পারে না। ফলস্বরূপ কোষগুলো যত মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব, কোমা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। একে ডক্টররা Water Intoxication/Dilutional Hypoatremia এর নামে অভিহিত করে থাকে।

তো এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে তাহলে আমি ঠিক কতটুকু পানি পান করবো? প্রশ্নটা সহজ হলেও উত্তরটা মোটেও সহজ না। দেখুন একেকজন মানুষের দেহ এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী একেকজন ব্যক্তির বিভিন্ন পরিমাণে পানি পান করার প্রয়োজন পড়ে। অনেকের মতে সারাদিনে ১.৫-২ লিটার পানি পান করাই যথেষ্ঠ আবার অনেকে বলেন যে আপনার দেহই আপনাকে তৃষ্ণার মাধ্যমে ইঙ্গিত দিবে যে ঠিক কখন আপনার পানি পান করা প্রয়োজন এবং কখন থেমে যাওয়া প্রয়োজন। ঠিক কিভাবে পানি পান করা উচিত তা জানতে আপনি ২ ভাবেই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, কোনটা আপনার মতে ভালো মনে হয়।