আমি ফিরে আসবো, এসে তোমার খেলা দেখবো-ইকবাল খান

উত্তরা নিউজ ডেস্কঃ আমার জন্য খেলাটাকে বেঁছে নেওয়া খুবই সহজ ছিল। ১৯৯৭ সালে আইসিসি কোয়ালিফায়ারে জেতার পর ক্রিকেট খেলাটা দেশে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল। আমি ক্রিকেট খেলাটাকে ভালবেসেছিলাম বোধহয় এই কারণে যে আমার চাচা (আকরাম খান) সব স্তরের ক্রিকেট খেলতেন এবং লোকজন তাঁকে অনুসরণ করতো। আমার বড় ভাইও (নাফিস ইকবাল) ক্রিকেট খেলতেন। তাই ক্রিকেট খেলাটা আমার জন্য সারপ্রাইজের মতো ছিলনা কখনোই। চট্টগ্রামে আমাদের বাড়ি স্টেডিয়াম থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা দুরত্বে।

আমার বাবা সবসময় চাইতেন যেনো আমি ক্রিকেট খেলি। তিনি বিকলাঙ্গ ছিলেন, অসুস্থতার কারণে পা হারিয়েছিলেন। তিনি তার কৃত্রিম পা দিয়ে আম্পায়ারিং করতেন, যেনো আমি ব্যাটিং করে যাই। তার স্বপ্ন ছিল যে আমি একদিন বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলবো। আমি আমার বাবার খুব ন্যাওটা ছিলাম। সাধারণত ছেলেরা মায়ের ন্যাওটা হয়, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেটা উল্টা ছিল।

যেদিন আমার বাবা মারা গেলেন সেদিন আমার অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে খেলার কথা। হার্ট অ্যাটাক হলে যখন তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় শেষকথা যেটা তিনি আমাকে বলেছিলেন- ‘চিন্তা করোনা, বিছানাতে যাও। আমি ফিরে আসবো, এসে তোমার খেলা দেখবো’।

আমি শুধু আমার বাবার স্বপ্ন তাড়া করছি। এটাই আমার ক্রিকেট খেলার পেছনে সবচেয়ে বড় মোটিভেশন। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি আমার বড় ভাই ও আমাকে, দুজনের কাউকেই দেশের হয়ে খেলতে দেখতে পারেননি। তবে আমি নিশ্চিত উনি যেখানে আছেন সেখান থেকে আমাকে খেলতে দেখে খুশি হচ্ছেন।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: