আমার নিজের থেকেই নিজের অনুপ্রেরণা


» শিপার মাহমুদ (জুম্মান) | স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা নিউজ | সর্বশেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ - ০৬:৫০:০০ অপরাহ্ন

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। জন্ম হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে ২০০৯ সালে চলে যান লন্ডনে। সেখানে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার অ্যাট ল’ করেন তিনি। এরপর দেশে ফিরে আসেন সুমন। যুক্ত হন আইন পেশার সঙ্গে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তিনি।

এলাকার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর অনিয়মের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ করে পেয়েছেন খ্যাতি। সম্প্রতি ব্যক্তিগতসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন উত্তরা নিউজের সঙ্গে।

উত্তরা নিউজ : এলাকায় ব্রিজ নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করছেন। কার কাছ থেকে এ অনুপ্রেরণা পেলেন?
সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: আমি ছাত্রজীবন থেকে রেগুলারলি বাড়িতে যেতাম। কারণ, যতই উপরে উঠি না কেন বাড়ি এবং বাড়ির লোকজন আমার জন্য একই রকম। আমার যখন অবস্থা উন্নতির দিকে তখন কিন্তু বাড়ি বাড়ির মতই ছিল। আমি প্রথমে ব্রিজের কাজ দিয়েই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করি। পানির কারণে যেসব জায়গা দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের যেতে কষ্ট হতো সেখানে প্রথমে ব্রিজ বানানো শুরু করি।

আমার ধারণা ছিল যে, যখনই আপনার কাজ করার সক্ষমতা থাকবে তখনই কাজ শুরু করে দেয়া উচিত। মানুষের সেবা করা বা কাজ করার জন্য আপনি কবে এমপি অথবা মন্ত্রী হবেন, এটার জন্য অপেক্ষা না করে কাজ শুরু করে দেয়া উচিত। কারণ, দেখা গেল আপনি জীবনেও এমপি হতে পারলেন না কিন্তু এর মানে কি আপনি আপনার জন্মস্থান বা এলাকার জন্য কাজ করবেন না? আমি ধরে নিয়েছি নিজের এলাকা আমার দায়িত্বের মধ্যে প্রথমে পড়ে। তাই এ দায়িত্বটা পালন করার জন্যই আমি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করি। বলতে গেলে এটা ছিল আমার নিজের থেকেই নিজের অনুপ্রেরণা।

এছাড়া ব্যারিস্টার হওয়ার পেছনে আমার মনে হয় অনেক মানুষের অবদান আছে। অনেক মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু যাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ তাদের কাছে সেই কৃতজ্ঞতা ফেরত দেয়ার অবস্থা এখন আর নেই। কারণ তারা হয়তো এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। তবে কারো না কারো কাছে তো আমাকে ফেরত দিতেই হবে। যাদের কারণে এত দূরে এসেছি তাদের সম্মান দেখানোর জন্যই অন্য মানুষদেরকে সেবা করার মানসিকতা সব সময় ছিল। এ থেকেই মূলত আমার অনুপ্রেরণা।

উত্তরা নিউজ: অনেকেই বলেন, আপনি এমপি হওয়ার জন্য এসব উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: যখন ১০ থেকে ১২টা ব্রিজ বানাই তখন অনেক মানুষই এ কথা বলেছিল। আমি তখন এর জবাব দেইনি। গত নির্বাচনে আমি এমপি হতে চেয়েছিলাম। তবে যখন দেখলাম আমার চেয়ে ভালো প্রার্থী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন হঠাৎ করে ঘোষণা দিলেন এমপি নির্বাচন করবেন, তখন আমি দলের কাছে মনোনয়নও চাইনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেছি, উনি আমার চেয়ে ভালো প্রার্থী। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। আমি দেখলাম, আমি এমপি হয়ে লাভ কি? তিনি যদি এমপি হন অর্থমন্ত্রী হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকবে। এজন্য আমি আগেই সরে দাঁড়িয়েছি। এর চেয়ে ভালো প্রমাণ আর কি হতে পারে? আমি এমপি হতে চাই। এর মানে এই নয় যে, আমার চেয়ে অন্য কোনো যোগ্য কাউকে রেখে এমপি হতে চাই। এমপি হওয়ার মধ্যে কোন খারাপ কিছু নাই কিন্তু কাউকে ঠকিয়ে বা যোগ্যতাসম্পন্ন লোককে বাদ দিয়ে অথবা তদবির করার মধ্য দিয়ে শুধু দলের কারণে এমপি হতে চাই না।

উত্তরা নিউজ: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লাইভের মাধ্যমে আপনি জনপ্রিয় হয়েছেন কিন্তু বর্তমানে আপনাকে লাইভে খুব কম দেখা যাচ্ছে।
সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: আমার বর্তমানে ফেসবুক পেজে ২৭ লাখ ফলোয়ার আছে। এতগুলো মানুষকে প্রতিটা কাজের প্রথম এবং শেষ পর্যন্ত দেখাতে হয়। না হলে ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে। যেমন নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। বর্তমানে এই মামলাটির বিচার চলছে।

এখন কিন্তু প্রায়ই এই মামলার বিচারে বাদী হিসেবে আমাকে থাকতে হয়। এটাতো আর মানুষ জানে না। যদি এ মামলায় কোনো সাজা না হয় তাহলে মানুষ আমাকে ভুল বুঝবে। বলবে, উনিও মনে হয় জনপ্রিয় হওয়ার জন্য এসব মামলা করেন। এছাড়া আমি এখন চেষ্টা করি এমন লাইভ করার, যার কোয়ালিটি ভালো হয়। অর্থাৎ বেছে বেছে লাইভ করার কারণে সংখ্যাটা কিছু কম হতে পারে।

উত্তরা নিউজ: মানুষ আপনাকে বেশি বেশি লাইভে দেখতে চায়। এ ব্যাপারে কি বলবেন?
সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন: মানুষের চাহিদা অনেক বেশি। তারা চায় আমি সব জায়গাতে গিয়েই লাইভ করি কিন্তু এটা তো বিবেচনায় রাখতে হবে, আমি তো দুদক, পুলিশ বা সাংবাদিক নই। যেমন আপনারা সাংবাদিক। একটা ঝামেলা হলেই আপনারা দৌঁড়ে সেখানে যাবেন। এটা আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে কিন্তু আমি কি? এটা তো বুঝতে হবে। সব জায়গায় আমার যাওয়ার সামর্থ্য আছে কিনা অথবা আমি যেতে পারি কিনা সেগুলোও তো দেখতে হবে। কারণ, আমারও তো সীমাবদ্ধতা আছে। ধরুন মিন্নির ঘটনা। ঢাকা ছেড়ে বরগুনা যাওয়া তো অনেক কঠিন কাজ। আর আমার তো একটা পেশা আছে। আমি আইনজীবী। আইনজীবী মানে আমি রেগুলার আদালতে থাকব। এটা আদালত সংশ্লিষ্টরা আশা করেন কিন্তু এগুলো রেখে যদি বাইরে ঘুরে বেড়াই তখন এক ধরণের মানুষ বলবে, তার কি আর কোনো কাজ নেই? তাই সবকিছু বিবেচনায় রেখে যেখানে আমার যাওয়ার সক্ষমতা থাকে আমি সেখানেই যাই।