আব্দুল্লাহপুরে রিক্সা-ইজিবাইকে চাঁদাবাজি ইস্যুতে থলের বিড়াল কে?


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২০ - ০৬:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন

রাজধানী উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরখানের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা প্রায় শত শত ইজিবাইক, অটোরিক্সা ঘিরে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রতিদিনেরই চিত্র। যা নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একাধিকবার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। সেসব খবরের শিরোনামে মন্টু নামের এক ব্যক্তিকে এই চাঁদা উত্তোলনের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে অধরাই থেকে যাচ্ছে পরিবহন খাত হতে চাঁদা আদায়ের মূল বাজিকররা।

বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুবউদ্দিন সড়কের দুপাশে দোকান স্থাপন, সড়কে চলাচলরত রিক্সা, অটোরিক্সা, ইজিবাইক ও লেগুনা থেকে বর্তমানে যে কায়দায় চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে পূর্বে সেটি মূলত বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিচালনা করতো। টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতার প্রথম দিকে হাই-কমান্ডের নির্দেশে বিএনপির নৈরাজ্য ও বোমাবাজি ঠেকাতে দলীয় বলয় দ্বারা আব্দুল্লাহপুর হতে বিএনপিকে উৎখাত করে। ফলে সড়কটিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিস্তার লাভ করে।

এতে করে বিভিন্ন দোকান ও পরিবহন হতে চাঁদা আদায়ের উৎস চলে আসে স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীদের হাতে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সড়কটি জুড়ে চলে আসছিল চাঁদা উত্তোলনের রীতি। আর এই রীতিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে বৃহত্তর উত্তরার রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা গা ভাসাননি, এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুবই কম।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপই স্থানটিতে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় রয়েছে। মাস শেষে উত্তোলনকৃত চাঁদা চলে যায় বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে। তবে এসব টাকার একটা অংশ আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতার কল্যাণেই খরচ হচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্রে আরও জানা যায়, যদি ক্ষমতাসীনরা অত্র অঞ্চলে চাঁদা উত্তোলন নিয়ন্ত্রন না করতো, তাহলে বিএনপির নেতাকর্মীরাই এসব দখলে নিতো।

অত্র সড়কে দোকানপাট ও পরিবহন হতে চাঁদা উত্তোলনের সাথে রিক্সা গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমান মন্টু নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও মন্টু এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছেন। তার দাবী, হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার স্বার্থে একটি মহল তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। অত্র অঞ্চলে অটোরিক্সা, ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহন হতে যেভাবে চাঁদা উত্তোলন করা হয় সেটি কোন একক সিন্ডিকেটে পরিচালিত হয় না। নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মন্টু উত্তরা নিউজকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জন্যই রাজনীতি করেছি। উত্তরার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের হাই-কমান্ডের নির্দেশেই সবসময় রাজপথে লড়াই করেছি। সামনের দিনগুলোতে আমার ভালো অবস্থান নিশ্চিত বুঝতে পেরে বিএনপি হতে আসা নব্য আওয়ামী লীগাররা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।’

এদিকে, উত্তরখানের বিভিন্ন সড়কে চলাচলরত শত শত পরিবহন হতে যে-ই চাঁদা তুলুক না কেন, ভোগকারী হিসেবে অনেকের নামই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসব নামের তালিকায় উত্তরখান, দক্ষিণখানসহ উত্তরার রাজনীতিতে জড়িত রাঘব বোয়ালদের নামও রয়েছে। সেই সাথে বাদ নেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে কিছু নামধারী সাংবাদিকদেরও। জানা যায়, উত্তোলনকৃত চাঁদার টাকা নির্দিষ্ট মাধ্যমে মাস চলে যায় ঐন্দ্রজালিকদের পকেটে।