uttaranews24 uttaranews24
সবার আগে সবসময়


আবারও চালু হচ্ছে বাচসাস পুরস্কার






উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর। ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) তার ৫০ বছর অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে। আগামী ৫ এপ্রিল শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবনের আন্তর্জাতিক মানের প্রধান অডিটরিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে দিবসটি স্মরণীয় করে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একসময় সিনেমার মানুষদের কাছে অনেক সম্মানী ছিলো বাচসাস পুরস্কার।

বাচসাসের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্র সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেয়ার সক্ষমতা এবং কাজের পরিবেশ তৈরি করা। পাশাপাশি চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের মাধ্যমে ভালো সিনেমাকে উৎসাহ দেয়া। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালকে একটা ইউনিট ধরে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। তখনও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তিত না হওয়ায় সিনেমায় ও সমাজে দারুণ সাড়া জাগায় বাচসাস পুরস্কার। টানা ১৯৮৮ পর্যন্ত চলেছে এই পুরস্কার দেওয়ার আয়োজন।

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে আবার ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত চলেছে এই পুরস্কার। ২০১২-২০১৪ মেয়াদে আগের মেয়াদের অসমাপ্ত তিন বছরের পুরস্কারসহ মোট পাঁচ বছরের পুরস্কার (২০০৯-১৩) প্রদান করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে বর্তমান কমিটি। রাজ্জাক, কবরী, তিন বোন সুচন্দা, ববিতা, চম্পা থেকে মৌসুমী, ওমরসানি, পপি, ফেরদৌস, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, মাহীসহ একঝাঁক তারকায় রঙিন হয় মঞ্চ। শিল্পী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে বাচসাস সংগঠনের সদস্যদের সাংবাদিকতার কৃতী পদক দেয়া হয়। নানা কারণেই থমকে যায় পুরস্কার প্রদানের আয়োজন।

বিলম্বে হলেও আবারও শুরু হচ্ছে সেই আয়োজন। এবার বাচসাসের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে দু’জন সেলিব্রিটিকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে এবং বিশিষ্ট ৫ ব্যক্তিত্বকে দেয়া হবে বিশেষ ইমেরিটার্স অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া হবে ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি থেকে। ইতিমধ্যে বাচসাস জুড়ি বোর্ড চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য ছবি দেখা সম্পন্ন করেছেন। এবার জুড়ি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন সিনিয়র সাংবাদিক নরেশ ভূঁইয়া।

বাচসাস কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে এ আসরে নায়ক আলমগীর ও নায়িকা কবরীকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হবে। এছাড়া বাচসাস সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাদের স্ব স্ব কর্ম বিবেচনায় এনে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হবে। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন কোহিনূর আখতার সুচন্দা (অভিনয়ে), সৈয়দ হাসান ইমাম (অভিনয়ে), রুনা লায়লা (সঙ্গীতে), মির্জা আবদুল খালেক (প্রদর্শক-লায়ন সিনেমা হলের শত বর্ষ পূর্তিতে) এবং ফরিদুর রেজা সাগর (প্রযোজক-দেশের সর্বাধিক ছবির প্রযোজক)।

এছাড়া বাচসাস প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য একমাত্র জীবিত সাংবাদিক শাহাদাত হোসেনকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে। জুড়ি বোর্ড ২০১৪-২০১৮ পাঁচ বছরের বাচসাস পুরষ্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করবেন আগামী ২ এপ্রিল মঙ্গলবার।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে আছে সকাল ১০টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সুবর্ণ জয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। তারপর প্রীতি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। বিষয় থাকবে সিনেমা হল বন্ধের পক্ষে বিপক্ষে। একদিকে থাকবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ ও তার দল অপরদিকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও তার দল। এরপর অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র শিল্পের সাম্প্রতিক বিষয়াবলী নিয়ে বিশেষ সেমিনার।

দুপুরে জুম্মার নামাজ ও খাবারের বিরতি। এরপর দুপুর আড়াইটায় পুরনোদিনের ছবির প্রদর্শনী। সন্ধ্যায় শুরু হবে বাচসাস রজনী। ৫০ জন তারকা শিল্পীর সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে প্রদান করা হবে বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বিশেষ সম্মানা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সভাপতিত্ব করবেন বাচসাস সভাপতি আবদুর রহমান।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাচসাস প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল্লাহ জেয়াদ সম্পাদিত একটি বিশেষ স্যুভেনির প্রকাশিত হবে। ওই দিন পুরো আর্কাইভ ভবন জুড়ে দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। থাকবে স্বর্ণালীযুগের ছায়াছবির পোষ্টার প্রদর্শনী, নানা রকম স্টল ইত্যাদি। নিরাপত্তার স্বার্থে গেইটে কার্ড প্রদর্শন করে প্রবেশ করতে হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা আছে। বাচসাস সদস্যদের জন্য বিশেষ কার্ডও প্রদান করা হবে ওইদিন।