আবরার হত্যার চার্জশিট প্রস্তুত, আসামি ২৪ জন


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৯ - ০৩:৩৪:১২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই মধ্যে চার্জশিট লেখাও শেষ হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে বুয়েটের ২৪ ছাত্রের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তাদের সবাইকেই চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এ মামলার তদন্ত শেষ করল ডিবি পুলিশ। যে কোনো দিন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী চার্জশিটে উল্লেখ করা হচ্ছে যে শিবিরকর্মী সন্দেহে আবরারকে খুন করা হয়েছে। আসামিরা ওই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। চার্জশিটে যে ২৪ জনকে আসামি করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে ২১ আসামি কারাগারে রয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৬ জন এবং এজাহারের বাইরে পাঁচজন আসামি রয়েছে। এজাহারভুক্ত তিন আসামি এখনও পলাতক। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন গতকাল সোমবার সমকালকে জানান, আবরার হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। চার্জশিটও প্রস্তুত করা হয়েছে। এই চার্জশিটে আসামি হিসেবে ২৪ জনের নাম রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

অবশ্য অপর একজন কর্মকর্তা জানান, সোমবার তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্নিষ্ট আইনজীবীদের নিয়ে চার্জশিট পর্যালোচনা করেছেন। আজ মঙ্গলবার তা আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে এত বড় ঘটনায় চার্জশিট দেওয়ার আগে তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর অনুমতি নিতে চান। কিন্তু পুলিশপ্রধান দেশের বাইরে থাকায় আজ চার্জশিট জমা দেওয়া নাও হতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ৭ নভেম্বর পুলিশপ্রধানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি ফিরলে ওই দিনই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে অপর আসামিদের সম্পৃক্ততাও উঠে এসেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু`জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর বাইরে তদন্ত কর্মকর্তারা বুয়েটের শিক্ষক, শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট, চিকিৎসক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্নজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। চার্জশিটে তাদের সাক্ষী হিসেবে রাখা হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, চার্জশিটের সঙ্গে আলামত হিসেবে আবরারের রক্তমাখা জামা-কাপড়, মেসেঞ্জারে আসামিদের লিখিত যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত অন্যান্য যোগাযোগ, শেরেবাংলা হলের সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতও জমা দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, আসামিদের অন্তত ১১ জন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে ছিল। অপর আসামিরাও ছাত্রলীগের কর্মী বা সমর্থক ছিল। তবে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগ থেকে পদধারীদের স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু মামলার তদন্তের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিয়ে তাদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। চার্জশিটেও এর প্রতিফলন থাকছে। কার কী অপরাধ, কতটুকু অপরাধ- তা চার্জশিটে উল্লেখ করা হচ্ছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামি হচ্ছে যারা :মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অমিত সাহা, মাজেদুল ইসলাম, মুজাহিদুর রহমান, তাবাখারুল ইসলাম তানভীর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, আকাশ হোসেন, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মো. মোর্শেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, মুনতাসির আল জেমি, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না এবং এস এম মাহমুদ সেতু। তাদের মধ্যে মুন্না, অমিত সাহা, মিজান, রাফাত ও সেতুর নাম এজাহারে ছিল না।

আসামিদের মধ্যে রাসেল ছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক, ফুয়াদ সহসভাপতি, অনিক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক, সকাল উপ-সমাজসেবা সম্পাদক, মনির সাহিত্য সম্পাদক, জিয়ন ক্রীড়া সম্পাদক, রাফিদ উপদপ্তর সম্পাদক, অমিত সাহা উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তানিম, মুজাহিদুর ও জেমি সদস্য।

এখনও পলাতক যে তিনজন :তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মোর্শেদ ও এহতেশামুল তানিম এখনও পলাতক।

যে ৮ জন স্বীকারোক্তি দিয়েছে :এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা হলো নাজমুস সাদাত, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ও মনিরুজ্জামান মনির।

আবরার হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ সমকালকে বলেন, আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা উঠে এসেছে।

২২ বছর বয়সী আবরার তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলে নিজের কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরের দিন তার বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সূত্র : সমকাল পত্রিকা