আনসারীর জানাজা বনাম মিডিয়া ও বামপন্থী সুশীল সমাজের নিস্ফল এলার্জি

কওমিয়ান জিন্দাবাদ

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০১ মে ২০২০ - ১০:২২:০৭ অপরাহ্ন

গত দুই সপ্তাহে আগে বি-বাড়িয়ার প্রখ্যাত ওয়ায়েজ আল্লামা যোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজা নিয়ে একচোখা মিডিয়া ও বামপন্থী সুশীল সমাজ হৈ চৈ শুরু করে দেয়।হৈ চৈ করার অন্যতম কারণ ছিল লকডাউন ভেঙে লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেওয়া। তাদের চিল্লাচিল্লি আর টিভি টকশোতে কিছু গলাবাজদের চিৎকারে আমাদের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।

তারা অাশঙ্কা করেছিল এই জানাজা থেকে বি-বাড়িয়ার সব মানুষের মাঝে করোনা ছড়াবে।বি-বাড়িয়া থেকে দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়বে এই করোনাভাইরাস। সেই থেকে বি-বাড়িয়ার দশটি গ্রামকে লকডাউন করে রেখেছিল প্রশাসন। জানাজায় লাখ মানুষের সমাগম ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সরাইলের ওসি ও এসআই কে প্রত্যাহার করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।আজ চৌদ্দ দিন পর ঐ দশ গ্রামে লকডাউন শিথিল করেছে।অত্যন্ত অানন্দের বিষয় ঐ দশ গ্রামে একজনও করোনা অাক্রান্ত হয়নি।

এতে করে নাস্তিক,বামপন্থী, একচোখা মিডিয়ার গালে কষে চড় মারার ন্যায় হয়েছে।এটা আল্লাহ তা’অালার অশেষ রহমত বলা যায়।আজ ঐ দশ গ্রাম মিলে যদি একজনও করোনা রোগী পাওয়া যেত তাহলে মিডিয়া আর নাস্তিকরা কওমী আলেমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করত। হক্কানি অালেমদের অাল্লাহ বিশেষ সম্মান দান করেন।যদি বি-বাড়িয়ায় একজনও করোনা অাক্রান্ত পাওয়া যেত তাহলে আল্লামা যোবায়ের আহমদ আনসারীর শানেও অনেকে বেয়াদবি করত।আল্লাহ তায়ালা সেই সুবাধে হয়তো সবাই কে করোনা আক্রান্ত থেকে বাঁচিয়েছে। একাত্তর টিভি আর সময় টিভির বিদ্বেষমূলক আচরণের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ধিক্কার জানাচ্ছি তাদের যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করে অনাকাঙ্খিত জানাজার লোক সমাগম নিয়ে নির্লজ্জের ন্যায় ট্রল করেছেন তাদের। যারা নির্লজ্জের ন্যায় ট্রল করেছেন তারা কি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন? কোথায় আজ ব্যারিস্টার সুমন? জানাজার পরে আলেম উলামাদের গালি দিয়েছিল। সেই ব্যারিস্টার সুমন মুজিব কোট গায়ে দিলে করোনা ধরবে না এমন কথা বলে মূর্খতার পরিচয় দিয়েছেন।

ফেইসবুকের লাইভে এসে আল্লামা যোবায়ের আহমদ আনসারী সাহেবের জানাজা নিয়ে বহু চিল্লায়ছে।আজ কি ক্ষমা চাইতে লাইভে আসবেন? নাস্তিক,বামপন্থী সুশীল সমাজ ও হিন্দুত্বাবাদী একচোখা মিডিয়ার বুঝা উচিত আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের কখনো বেইজ্জত করেন না।আল্লামা যোবায়ের আহমদ আনসারী একজন হক্কানি অালেম ছিলেন।সেই উছিলায় হয়তো আল্লাহ বি-বাড়িয়াকে করোনা থেকে মুক্ত রেখেছেন।জানাজা নিয়ে শুধু নাস্তিক,বামপন্থী ও মিডিয়া হৈ চৈ বা বিরোধিতা করছে তা নয়।

ঐ জানাজা নিয়ে জামায়াত ও শিবিরের অধিকাংশ নেতা কর্মী নির্লজ্জ বিরোধিতা করেছিল।বিরোধিতা করেছিল সুন্নী নামধারী বেদাতিরাও।নাস্তিক ও বামপন্থীদের সুরেই বিরোধিতা করেছিল জামায়াত শিবির ও বেদাতিরা।চৌদ্দ দিন পরেও ঐ দশ গ্রামে কোন করোনা অাক্রান্ত না পাওয়াটা আমাদের জন্য সুখবর বলা যায়। সাথে সাথে এটা নির্লজ্জ,একচোখা মিডিয়া ও বামপন্থীদের গালে চপেটাঘাত করার ন্যায়।যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করে জানাজা নিয়ে নির্লজ্জের ন্যায় গলাবাজি,ট্রলবাজি করেছে তাদের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।অন্যথায় তাদের কূপমন্ডুক, অকালকুষ্মমান্ড ছাড়া ভাবা যায়না। এই ঘটনার মাধ্যমে কওমিয়ানদের শান ও মান বহুগুণ বেড়ে গেছে। জোরসে বলো, কওমিয়ান জিন্দাবাদ।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী