আত্রাইয়ে অসহায় এক বৃদ্ধা মায়ের মানবেতর জীবনযাপন 


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ অগাস্ট ২০২০ - ১০:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

আত্রাই(নওগাঁ)প্রতিনিধি: 
বৃদ্ধ বয়সে কেউ ঠিকমত খোঁজ রাখছেনা বৃদ্ধ মায়ের। বয়সের ভারে এখন নানা রোগ শোকের বাসা বাঁধছে শরীরে হয়েছে প্যারালাইসিস। কিছুটা হলেও সরকারের দেওয়া বয়স্কভাতার টাকায় চলে বৃদ্ধ জোহরা বেওয়ার ওষুধপত্র। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হায়াত দারাস করেন। হ্যাঁ এভাবেই কথাগুলো বলেছেন সন্তানের অবহেলার জোহরা বেওয়া নামে এক বৃদ্ধ মা। ওই  বৃদ্ধ মহিলা জোহরা বেওয়া নওগাঁ জেলার আত্রাই  উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের হাটুরিয়া গ্রামের  বাসিন্দা এবং থাকেন ছেলের বৌমার কাছে। বৃদ্ধ বয়সে তার চলার শক্তি আল্লাহ কেড়ে নিয়েছে। সঙ্গ দেয়ারও মানুষ নেই।
জোহরা বেওয়ার বয়স ৭০ ছুই ছুই । এক ছেলে ও তিন মেয়ের তার। স্বামী মারা গেছে অনেক আগে । চোখের পাশে, কপালে ও হাতে যে দাগগুলো, তা কিন্তু তার বয়সের ছাপ নয়। হোচটে আঘাতের চিহ্ন ওগুলো।গত বৃহস্প্রতিবার (১৩ আগষ্ট) হাটুরিয়া গ্রামে সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায়,টিনের চাউনি টিনের বেড়া বদ্ধ অন্ধকার ঘরে বৃদ্ধা জোহরার বসবাস। ক্ষুধার যন্ত্রনায় সময় সময় বৃদ্ধা হাউ মাউ করে কাঁদছেন। ডাক্তার দেখাতে পারেননি অর্থ সংকটে। তিনি অন্ধকার ঘরের মধ্যে একা বসবাস করেন। ছেলের খোঁজ নেই। ছেলের ওঠানো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ঘরের মধ্যে থাকেন একা। ছেলে জহির উদ্দিন  কাজের থাকে বাহিরে আর বৌ সুবেদা বেগমর জন্য মায়ের খবর নিতে সাহস পায়না। এক-দুই বার অথবা মায়ের কোন বিশেষ সংবাদ শুনলে দেখে।  তাদের ঘরে বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধ মায়ের ঘরে একটি বাতি দেয় ওদের ইচ্ছে মত।  প্রতিবেশিরা বার বার বলা সত্ত্বেও বেশি বিলের ভয়ে ছেলে জহির ও বৌ লাইন দেননি মায়ের ঘরে। অবশ্য ছেলের বৌ একটু বেশি মুখচোাঁ (ঝগড়াতে) হওয়ায় এজন্য প্রতিবেশিরা তাকে বিশেষ কিছু বলতে ও পারে না। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে ঝগড়া লাগে ছেলের বউ সুখেদা।প্রতিবেশীরা বিদ্যুৎ বিল ও বৃদ্ধা জোহরার খুপরি ঘরে ফ্যান দিতে চাইলে ও নিতে দেয়নি ছেলে বউ। প্রতিবেশী আফরোজা স্বামী মৃত আনোয়ার হোসেন টমা’র কথায় চলে জহির উদ্দিন ও সুখেদা বেগম।     া
বৃদ্ধা জোহরার বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা সহ জমি রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে বৃদ্ধার কাছে থেকে।বৃদ্ধা জোহরা সব হারিয়ে নিঃস্ব মানবেতর জীবনযাপন করছে।জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণে ।
বৃদ্ধা জোহরার মেয়ে শেফালী মায়ের মানবেতর জীবনযাপনের কথা বলতে চোখে ছলছল জল নিয়ে বলে, আমার মা খুব কষ্টে আছে।তাঁকে দেখার কেউ নেই।আমি মেয়ে হয়ে ও মায়ের সেবা করতে পারছি না।এমনই হতভাগ্য মেয়ে আমি।মাকে কাছে রেখে সেবা করতে চাইলে। মা যদি মারা যায় কেস করার হুমকি দেয় আমার ভাই।
হাটকালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান  মো.আব্দুস শুকুর সরদার জানান,আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা সত্যি ই কষ্টের। আমি জানতাম না যে ছেলে মাকে এমন কষ্টে রাখতে পারে। আমি যখন জানলাম এর একটি ব্যবস্থা আমি করবো।
হাটুরিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো.আফজাল হোসেন বলেন,বৃদ্ধা আমার প্রতিবেশীই ধরা যায়। বৃদ্ধার ছেলে ও ছেলের বউ কে অনেকবার বলেছি। তারা যেন বৃদ্ধার সাথে ভালো ব্যবহার করে। তারা ও অসহায় মানুষ।