আজকের উত্তরা ও আগামীর বাংলাদেশ

'উত্তরা থেকেই যাত্রা শুরু করবে আগামী দিনের একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ'

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ - ১১:৩০:২৫ অপরাহ্ন

বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সে জায়গা থেকে অতীতের কয়েক দশকের তুলনায় বিগত বছরগুলোতে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। দেশকে এগিয়ে নেয়ার এই অগ্রযাত্রায় সরকার অন্যান্য জায়গাগুলোর তুলনায় উত্তরাকে প্রাধান্য দিয়েছে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে মেট্রোরেল প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় উত্তরা থেকেই। এর ফলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পৌঁছা যাবে মাত্র ৩৭ মিনিটে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশনের মাধ্যমে মেট্রো রেলযোগে ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত হবে।

একই সাথে উত্তরা সংলগ্ন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। যা মেট্রোরেলের মতো বাংলাদেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী এলাকা বিস্তৃত এই প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে সরকার কর্তৃক সবচেয়ে বড় উদ্যোগ এটি।

এদিকে, গণপরিবহনকে গতিশীল করতে গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত মোট ২০.৫ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে বিস্তৃত র‌্যাপিড বাস ট্রান্সপোর্ট বা বিআরটি লাইন প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গাজীপুর হতে বিমানবন্দর পৌঁছাতে নিত্যদিনের যানজট ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ। এতে করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রশান্তি দানের পাশাপাশি উত্তরাবাসীদের প্রতিদিনের চলাচলে কেটে যাবে যানজটের ভয়।
সরকার উত্তরা এবং পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলোতে উপরোক্ত যে ধরনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উত্তরা স্থান হবে সবার উপরে। কেননা, দেশের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ বিমান (বলাকা), ঢাকা কাস্টমস হাউজ, হজ্জ ক্যাম্প, র‌্যাব হেডকোয়াটার্স, এপিবিএন, সিভিল অ্যাভিয়েশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেড কোয়ার্টার, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বিএনসিসি হেড কোয়ার্টার, বিসিক (স্কিটি) ট্রেনিং ইনস্টিউট, এসবি ট্রেনিং স্কুল, বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয়সহ দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বৃহত্তর উত্তরা হতেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে আসবে গতিশীলতা সেই সাথে দেশের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে সংস্থাগুলো।

এদিকে, ভবিষ্যতে দেশের অগ্রযাত্রার দুয়ার হিসেবে উত্তরাকে প্রস্তুত করতে খুব দ্রুতগতিতে কাজ চলছে এলাকার বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরগুলোতে সড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলমান। উপরোক্ত প্রকল্পগুলোর কাজের পাশাপাশি সেক্টরের সংস্কার কার্যক্রম ভবিষ্যতে পথচলায় সমন্বয়ক হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে গণমানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না কাউকেই। এছাড়াও দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরায় যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বসবাসের জন্য দেশের মানুষের কাছে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে উত্তরার নাম। যা বিবিসির এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকায় উত্তরাকে বসবাসের জন্য সবচেয়ে ভালো উপযোগী মনে করছেন দেশের মানুষ।

উন্নত আবাসিক ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি উত্তরায় রয়েছে একাধিক বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বড় বড় ২৯টি বাণিজ্যিক মার্কেট, একাধিক সুপার শপ, স্বনামধন্য হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে পুরো উত্তরা জুড়ে। এছাড়াও সকল ধর্মের মানুষদের ইবাদতের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। যা বসবাসের জন্য উত্তরাকে করে তুলেছে পরিপূর্ণ ও অন্যন্য।

পরিশেষে বলা যায়, উত্তরাকে ঘিরে সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে চলছে তাতে করে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উত্তরার নাম উঠে আসবে সবার আগে। সেই সাথে দেশের উন্নয়নে উত্তরার নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। উত্তরা থেকেই যাত্রা শুরু করবে আগামী দিনের একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।