আওয়ামী লীগ মনোনীত আবেদা আক্তারের প্রার্থীতা বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

ডিএনসিসি সংরক্ষিত ১৭নং ওয়ার্ড

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২০ - ১০:২৯:৫৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে সংরক্ষিত আসন ১৭ ও সাধারণ ৪৯, ৫০, ৫১ নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবেদা আক্তারের প্রার্থীতা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। সংরক্ষিত আসনের এই প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন বাতিলের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড থেকে দলীয় (আওয়ামী লীগ) মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য প্রার্থীরা।

সম্প্রতি, বিষয়টি নিয়ে একটি মানববন্ধনও করেছেন উক্ত আসনে দলের (আওয়ামী লীগ) মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নারী প্রার্থী। ওই মানববন্ধনে অংশ নেয়া বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আবেদা আক্তারের স্বামী ফিরোজ জামান সাবেক ছাত্র শিবির ও বর্তমান জামায়াত নেতা । ফিরোজ জামানের পিতা (আবেদা আক্তারের শ্বশুর) মৃত মোহাম্মদ আলী মেম্বার শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তারা। বক্তরা বলেন, আবেদা আক্তারের ভাসুর অর্থাৎ স্বামীর বড় ভাই মোস্তফা জামান তুরাগ থানা বিএনপি’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে ৫৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। আবেদা আক্তারের মেঝো ভাসুর নুরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও অপর ভাসুর সুুরুজ্জামান জামায়াতের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল (রুকন) এর দায়িত্বে আছেন। মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, আবেদা আক্তারের ভাগিনা (বোনের ছেলে) আফাজ উদ্দিন ৫১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং স্বামীর ভগ্নিপতি আরব আলী তুরাগ থানা জামায়াতের সভাপতি, যার বিরুদ্ধে ১৬ টি মামলা রয়েছে। উপরোক্ত এসব অভিযোগ এনে উত্তরায় মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরের নেত্রীরা।

এদিকে, ২০১৯ সালে ডিএনসিসি উপ-নির্বাচনে উক্ত ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত আসনে আনারস প্রতীকে অংশ নেয়া প্রার্থী ও বর্তমানে উক্ত ওয়ার্ড থেকে দলের (আওয়ামী লীগ) মনোনয়ন প্রত্যাশী মার্জিয়া খাতুন স্বর্ণা বিষয়টি নিয়ে বলেন, “জামায়াত তথা বিএনপি’র মনোভাবাপন্ন পরিবার থেকে উঠে আসা একজন অনুপ্রবেশকারী কখনোই আওয়ামীলীগের মত ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধশালী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী সংগঠনের মনোনীত কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ার অধিকার রাখেনা।” তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি এমন জামায়াতপন্থী কর্মীদের আওয়ামীলীগে প্রবেশ করানো মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত পুরো জাতির আগামীকে অন্ধকারে ধাবিত করা। আমি দলের অভিভাবক ও গণতন্ত্রের মানসকন্যা, আমাদের অভিযোগের শেষ আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট দলের ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে আবেদা আক্তারের মনোনয়ন বাতিলের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।”

অপরদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে এখনই কিছু বলতে চাননা বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবেদা আক্তার। তবে তিনি বলেন, “আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। দল পর্যাপ্ত যাচাই বাচাই সাপেক্ষে আমাকে এই ওয়ার্ডে যোগ্য মনে করেছেন বিধায় মনোনীত করেছেন। এখন যারা এ বিষয়ে বিরোধীতা করছেন, তারা এক কথায় দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছেন।”

এদিকে, বিএনপি-জামায়াতের সাথে স্বামী ফিরোজ জামানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আবেদা আক্তার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার স্বামী (ফিরোজ জামান) একজন সফল ব্যবসায়ী। এলাকার সবাই তাকে ব্যবসায়ী হিসেবে চেনেন। এখন কেউ যদি তাকে নিয়ে অপ-প্রচার চালায় তাহলে কিছু বলার নেই।” অপরদিকে, স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আওয়ামী লীগের ঘোর বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে আবেদা আক্তার বলেন, “আমার পরিবারের (বাবা-মা) সদস্যরা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু, শশুর বাড়ির লোকজন যদি ভিন্নমতের কোন দলের সাথে থেকে থাকেন, তাহলে সেক্ষেত্রে আমার দোষ কোথায়?”

উত্তরা নিউজ/গাজী-শিপার