আংগুল চুষা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দর্শনের অভিপ্রায়!


» মোঃ সবুর মিয়া উত্তরা নিউজ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৬:০৩:১৪ অপরাহ্ন

ক্যাসিনো ভাইরাল শিহরিত অনুভব করছে এদেশের মানুষ,সকল স্থানে চায়ের আড্ডায় ঘুরেফিরে ক্যাসিনো সমাচার। বাংলাদেশের মত দেশে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা জুয়া হচ্ছে এবং সেখানে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন সংগঠিত হচ্ছে সঙ্গে মাদক ও নারী নেশায় মত্ত।ক্যাসিনোর সাথে এদেশের রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত, প্রভাবশালীরা ক্যাসিনো কে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

টকশোতে অনেকে বলেছেন এই ক্যাসিনো দেখার জন্য মালয়েশিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর, ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে হয় কিন্তু অদ্ভুত ক্যাসিনো আমাদের দেশে আছে এবং অত্যাধুনিক ক্যাসিনো যন্ত্রপাতি দিয়ে জুয়া খেলা হচ্ছে।

আঙ্গুল চুষা নিয়ে অনেক গল্প আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগের প্রধান আঙ্গুল চুষা তত্ত্বে নতুন মাত্রা ও বিতর্ক যুক্ত করেছে। দেশের সমস্ত প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তার বক্তব্যটি ভাইরাল হয়েছে তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন প্রশাসনের উপর, আবার ১৭,১৮ ঘন্টা পরে ইউটার্ন’ করেছেন।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানকে এ দেশের সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছে কিন্তু ভদ্রলোক কেন প্রশাসনকে আংগুল চুষার তত্ত্ব ব্যাখ্যা করলেন!! অনেকেই ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বলেছেন, সরিষার মধ্যেই ভূত!

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের প্রধানের বক্তব্যর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দর্শন খুব একটা শিষ্টাচারের মধ্যে পড় বলে অনেক বোদ্ধা মনে করেন না।

মিডিয়ায় রাঘব-বোয়ালদের নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত আসতে শুরু করেছে। এদেশের সাধারণ মানুষ দুষ্কৃতিকারীদের বিচারের কাঠ গড়ায় দেখতে চাই।বর্তমান সরকারদলীয় হুইপ চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মালিক তার ক্লাবে প্রশাসনের রেড দেয়ার জন্য খুব্ধ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন নগণ্য তাস খেলা কখনো ক্যাসিনো হতে পারে না। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা আপনাদের ক্লাবে তাস খেলেন সেটা কি জোয়া? জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তিনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন? একদিকে বলছেন ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান দেখতে চান। তাহলে কি স্ববিরোধিতা হয়ে যাচ্ছে?

সর্বমহলে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান কে স্বাগত জানালেও জনমনে প্রশ্ন আছে? অভিযান কতদিন পর্যন্ত চলবে রাঘববোয়ালরা কি প্রশাসনের জালে আটকা পড়বে নাকি পূর্বের বিভিন্ন অভিযানের মত বড় বড় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? কোটি কোটি টাকার অন্ধকার জগত সম্পর্কে অনেকেই অন্ধকারে ছিল, অনেকে অবাক হয়েছে!

ক্যাসিনো, তাসের জুয়া কিংবা যেকোন মাদকের পরিণতি কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না। একসময় আমাদের দেশে ক্লাবগুলোর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড দেশের মানুষকে আন্দোলিত করত। সেই ঐতিহ্য হারিয়ে ক্লাবগুলো পরিণত হয়েছে জুয়া ও মাদকের আসরে।

অপরাধীরা ও দুস্কৃতিকারীরা দেশের জন্য কখনো সুনাম বয়ে আনতে পারে না, তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। সমস্ত অপরাধ এবং অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি সুনিশ্চিত করতে পারলে ছোট অপরাধীরা অনেকটা দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে ইতিহাসে বিলীন হয়ে যাবে।