‘অশ্লীল ছবি ও লেখাযুক্ত জামা পরিধান করে নামাজ নয়’


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯ - ০৫:০২:৪৯ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অন্যান্য সকল ধর্মের লোকজনের তুলনায় মুসলমানদের আধিক্য অনেক আগ থেকেই বেশি। রাজনৈতিক উত্থান-পতন আর যত ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ঘটুক না কেন বাংলাদেশের মুসলমানরা ধর্মীয় জায়গা থেকে সবাই এক এবং অভিন্ন। কেননা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস তথা আল্লাহর প্রতি ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এক ও অভিন্ন। ইসলামের এসব স্তম্ভ সমূহে ইবাদতের পদ্ধতি শুরু থেকেই অপরিবর্তিত। তবে একথা সত্য যে, যারা ইসলামের স্তম্ভ সমূহের উপর আমল করে থাকেন, তারা মূলত স্তম্ভগুলোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেই ইবাদত বন্দেগী করেন ঠিকই তবে মূল সমস্যা দেখা যায় ব্যক্তিগত পর্যায় সমূহে। বিশেষ করে সুন্নতের বিষয়গুলো কেউ অনুসরণ করেন আবার কেউ অনুসরণ করে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে পোশাকের বিষয়টি। যেমন কেউ পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়েন আবার কেউ শার্ট-গেঞ্জি পরিধান করে নামাজ আদায় করেন। যারা পাঞ্জাবী পড়ে নামাজ আদায় করে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে কোনরূপ সমস্যা লক্ষ করা যায়না। অন্যদিকে যারা শার্ট বা গেঞ্জি পড়ে নামাজ আদায় করেন তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই বেশ কিছু সমস্যা লক্ষ করা গিয়েছে। সমস্যাগুলো হচ্ছে শার্ট বা গেঞ্জিতে নানা ধরনের চিত্র। যেমন- পশু পাখির ছবি, অশ্লীল টেক্সটসহ খারাপ সব প্রদর্শণীগুলো।

কথা হচ্ছে, যদি কেউ এমন পোশাকে নামাজ আদায় করে তাহলে তার নামাজ কতটুকু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে? বলতে পারবেন? উত্তরা ১১নং সেক্টর রাজউক লেকপাড় মসজিদের একটি ঘটনা তুলে ধরছি। মাগরিবের নামাজে ফরয নামাজ শেষে সুন্নত নামাজ আদায় করছে গেঞ্জি পরিহিত এক তরুণ। তরুণটির বয়স সর্বোচ্চ ১৪ কিংবা ১৫ হবে। উত্তরা ১১নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডা. মঈন উদদীন খান তরুণটির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। নামাজ শেষে তরুণটিকে জিজ্ঞাসা করলো- তোমার গেঞ্জিতে এটা কি লেখা? তরুণটি কোন জবাব দিতে পারলো না! এর কারণ, তরুণের পরিহিত গেঞ্জিটিতে এমন এক অশ্লীল বাক্য লেখা ছিল যা প্রকাশ করার মত নেই। তরুণটি মাথা নিচু করে এতটুকুই বললো, আঙ্কেল খেয়াল করিনি। এই বলে তরুণ মাথা নিচু করে সোজা চলে গেল।

আসলে তরুণটির এই ঘটনাটি তুলে ধরার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ছেলেটিকে যখন প্রশ্ন করা হলো, তখন সে জবাবে বলল আঙ্কেল খেয়াল করিনি। আসলেই তাই, আমরা অনেক সময় পোশাক কেনার ক্ষেত্রের সচেতন নই। অল্পতেই ভালো লাগলে পোশাকগুলো আমরা কিনে ফেলি। আবার অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিম নায়ক-নায়িকাদের অনুসরণ করে পোশাক কিনে থাকি। যা একেবারেই ঠিক নয়। কেননা, পশ্চিমাদের পোশাক আমাদের জন্য নয়। কেননা, নৈতিক তথা ধর্মীয়ভাবে পশ্চিমারা অতটা উন্নত নয়, যতটা আমরা উন্নত তথা ইসলাম উন্নত। আল্লাহ প্রেরিত ধর্ম ইসলাম যতটা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মই ততটা কল্যাণের সুবাতাস দিতে পারেনি। কেননা ইসলাম হচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বা বিধান। আর এই বিধানে চলতে গেলে অবশ্যই আমাদেরকে পোশাক থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি স্তরেই ইসলামের রীতি-নীতিগুলো অনুসরণ করতে হবে।

ইসলামে পুরুষদের পোশাক পরিধানের বিষয়ে রাজউক লেকপাড় মসজিদের সম্মাণিত ইমাম আশরাফ আলী বলেন, নামাজে আসার সময় অবশ্যই পোশাকের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আর এজন্য পাঞ্জাবী পড়ে নামাজ আদায় করা অতি উত্তম।

তাই সবশেষ বলা চলে, আসুন আমরা যারা মুসলিম। সকলেই পোশাক পরিধান করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি। কোন অশ্লীল শব্দযুক্ত টি-শার্ট, জীব জানোয়ারের ছবিযুক্ত পোশাক না পরিধান করে বরং শালীনতাশীল পোশাক সমূহ দ্বারা নিজেদের দেহকে আবৃত্ত রাখি।

লেখক- মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান, সাংবাদিক।