অবিলম্বে শ্রমিকের বেতন-বোনাস ও ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করুন

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০১৯ - ০৬:২০:০২ অপরাহ্ন

ঈদুল ফিতরের মাত্র দুই দিন আগেও বিভিন্ন কল-কারখানা ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-বোনাস না পাওয়ার খবরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। তিনি অবিলম্বে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান জানান। আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের ধনী ও মধ্যবিত্তরা যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনে কেনাকাটাসহ সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে নিয়েছেন, পরিবারের শিশু-কিশোরদের মাঝে বইছে আনন্দের ফল্গুনধারা, ঠিক সে সময়ে দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ ঘাম ঝরানো পারিশ্রমিকের জন্য অসহায় চোখে বিত্তশালী কারখানা মালিকদের করুণা পেতে কাতর চোখে চেয়ে আছেন।

কোটি কোটি কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে পরিবার নিয়ে চরম হতাশায় আছেন। যাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের উপর বিত্তশালীরা সম্পদশালী হয়েছে, নব্য ধনীদের লম্বা তালিকা হচ্ছে, আজ সেই মেহনতি মানুষদের চেহারায় রাজ্যের হতাশা এবং পরিবারের সন্তানদের চোখেমুখে ঈদের দুই দিন আগেও বিষাদের কালো মেঘ। এটা অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুরতা ছাড়া কিছু নয়।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, সরকারের তরফ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, দেশ নিম্ন আয় থেকে উন্নীত হয়ে এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিকে সিঙ্গাপুর, কানাডা, সুইজারল্যান্ডের সাথেও সরকারের কোন কোন মন্ত্রী তুলনা করছেন হরহামেশা। অথচ পত্রিকার পাতা জুড়ে কোটি কোটি কৃষকের হতাশার খবর, লাখ লাখ শ্রমিকের করুণ চেহারার প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, যারা উন্নয়নের গল্প করেন এবং সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও কানাডার গল্প শোনান, এটা ঠিক কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের উপর ভর করে তাদের সম্পদের পাহাড় তৈরি হয়েছে। তাদের পরিবারে ঠিকই সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার জীবনযাত্রার আবহ, ভোগবিলাসের পসরা। এরা সেবক নয়, জনদরদী নয়, বরং এরা শোষক ও লুটেরা। না হয় দেশের কোটি কোটি মানুষ যেখানে অভাবের তাড়নায় হাসি ভুলে গেছেন, ঈদের দুই দিন আগেও ন্যায্য বেতনের জন্য কাতর চোখে মালিকের দিকে চেয়ে আছেন, সেখানে কী করে এমন তামাশার গল্প শোনায় তারা।

জমিয়ত মহাসচিব কল-কারখানার মালিক এবং সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দয়া-দক্ষিণা নয়, দ্রুততম সময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বেতন-বোনাস পরিশোধ করুন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিন। কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করুন। অন্যথায় দেশের নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও সুবিচার পেতে সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামলে, উদ্ভূত সকল পরিস্থিতির দায়ভার সরকাকেই নিতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি