অত্যাধুনিক লিফট সম্বলিত দেশের প্রথম ১০ লেনের ব্রিজ নির্মাণ শুরু


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ - ০৫:৪৭:৪০ অপরাহ্ন

বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত পৃথক বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় টঙ্গীতে ১০ লেন বিশিষ্ট আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর চারটি লেন ব্যবহার করা হবে পৃথক বাস রুটের জন্য, চারটি লেন থাকবে পৃথকভাবে অন্যান্য যানবাহনের জন্য এবং বাকি দুই লেনে সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারবে। এ ধরনের ব্রিজ বাংলাদেশে এই প্রথম।
ঢাকা মহানগরীর সঙ্গে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জনগণের যাতায়ত নির্বিঘ্ন, দ্রুত ও আরামপ্রদ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট, যেখানে যানজটে পড়লে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়।

ব্রিজটি এলিভেটেড হবে। যাত্রীদের ব্রিজে উঠতে থাকছে এস্কেলেটর (সচল সিঁড়ি), লিফট ও সাধারণ সিঁড়ি। ১০ লেন বিশিষ্ট টঙ্গী ব্রিজের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৮০০ মিটার। ঢাকা থেকে আশুলিয়া হয়ে দুটি র‌্যাম্প নামবে এবং আশুলিয়া থেকে ঢাকায় দুটি র‌্যাম্প উঠবে ব্রিজে।

প্রকল্পের পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, শুধু ১০ লেন বিশিষ্ট ব্রিজ নির্মাণ নয়, পাশাপাশি তিন হাজার ৮৯ মিটার দৈর্ঘ্যের ছয়টি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হবে। ছয়টি ফ্লাইওভারের মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর ফ্লাইওভার ৮১৫ মিটার, জসিমউদ্দিন ফ্লাইওভার ৫৮০ মিটার, কুনিয়া ফ্লাইওভার ৫৫০ মিটার, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ফ্লাইওভার ৫৫০ মিটার, ভোগড়া ফ্লাইওভার ৫৮০ মিটার ও জয়দেবপুর ফ্লাইওভার দুই হাজার ১৪ মিটার।

গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচলে দুই পাশে বিশেষ লেন (বিআরটি) নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ সাত বছরে প্রকল্পের মোট ফিজিক্যাল ৩৩ শতাংশ। শুরু থেকে প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে ৯৫৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৪৫৬ কোটি ৪৩ লাখ। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ বা ২৪ শতাংশ। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, সেতু বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এক প্রকল্পের আওতায় তিন বিভাগ পৃথকভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি দাতা সংস্থা এএফডি, গ্লোব্যাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে এক হাজার ৬৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় এক দশমিক ৯০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, বিমানবন্দরে ৫৫০ মিটার আন্ডারপাস, প্রকল্প এলাকায় ২০ হাজার বর্গমিটারের একটি বাস ডিপো নির্মিত হবে। ফুটপাতসহ উভয়পাশে উচ্চ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ২৪ কিলোমিটার ড্রেন, আটটি কাঁচাবাজার ও ১৯টি বিআরটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

বিআরটি করিডোর উভয়পাশে সার্ভিস লেনসহ ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পৃথক বাসরুট, ফ্লাইওভার ছয়টি, সংযোগ সড়ক ১৪১টি, মার্কেট উন্নয়ন ১০টি, স্টর্ম ড্রেন ১২ কিলোমিটার, আট লেন বিশিষ্ট টঙ্গী সেতু, গাজীপুর বাস ডিপো, জয়দেবপুর বাস টার্মিনাল ও বিমানবন্দর বাস টার্মিনাল এবং পিপিপির ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পৃথক ১২০টি আর্টিকুলেটেড (দুই বগির জোড়া লাগানো) বাসে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছবে যাত্রীরা। এ বাসের দৈর্ঘ্য হবে ১৮ মিটার; তবে সাধারণ বাসের থেকে এর যাত্রীধারণ ক্ষমতা দ্বিগুণ। প্রায় দেড়শ’ যাত্রী এক-একটি বাসে ভ্রমণ করতে পারবেন।

যানজট নিরসনে বিআরটি বিশ্বব্যাপী একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা। বিআরটি লাইসেন্স ছাড়া এ রুটে কেউ বাস চালালে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে আইনে। এছাড়া আইনের কোনো বিধান কেউ লঙ্ঘন করলে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়ার বিধানও রয়েছে।