water-guaba-market

সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে ভীমরুলির হাট। চাষীরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে নৌকাভর্তি শত শত মণ পেয়ারা নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। পাইকাররা বড় নৌকা বা ট্রলার নিয়ে পেয়ারা কিনতে আসেন। এই হাটে প্রতিদিন আড়াই হাজার মণেরও বেশি পেয়ারা বিক্রি হয়। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হয় প্রতিমণ।

যারা কেরালার ব্যাকওয়াটার দেখে আফসোস করেন বা থাইল্যান্ডের ফোটিং মার্কেটে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন, তারা পেয়ারার মৌসুমে একবার ঘুরে আসতে পারেন ভাসমান পেয়ারার বাজার থেকে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে পেয়ারার ভরা মৌসুম। সবুজ কতটা গাঢ় হতে পারে, মানুষের জীবনধারন কতটা প্রকৃতি বান্ধব ও সাবলিল হতে পারে, তা উপভোগ করতে আপনিও বেড়িয়ে আসুন বরিশালে।

রিভারাইন এ্যগ্রো বেইজড কমিউনিটি ট্যুরিজমের এক অনন্য গন্তব্য হতে পারে এই ভীমরুলি ভাসমান বাজার, যাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে পর্যটকদের জন্য সুব্যবস্থা, ভাসমান প্রমোদতরী, ভাসমান আবাস ব্যবস্থা  (ফ্লোটিং হোম), নিয়মিত নৌ ভ্রমণ ব্যবস্থা। এই অঞ্চলে পর্যটক সমাগম ঘটলে স্থানীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থান, টেকশই হবে গ্রামীণ অর্থনীতি, সমৃদ্ধ হবে পর্যটন শিল্প।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা সদর ঘাটে থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় হুলারহাটের উদ্দেশ্যে ৩-৪ টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। ভাড়া ডেক-২০০ টাকা,  সিঙ্গেল কেবিন : ৯০০-১০০০ টাকা। লঞ্চে উঠে নেছারাবাদ বা স্বরূপকাঠি নামবেন। এর আগের স্টপেজ বানারীপাড়াতেও নামতে পারেন। এরপর ট্রলার ভাড়া নেবেন ৫-৬ ঘন্টার জন্য। নেছারাবাদ খাল হয়ে আটঘর, কুরিয়ানা ঘুরে ভীমরুলি বাজার। ভিমরুলি বাজারে গিয়ে দেখবেন খালের মধ্য শত শত পেয়ারার নৌকা। ইচ্ছে করলে কিনতে পারবেন পেয়ারা। এরপর আবার খানিকটা ঘুরে কুরিয়ানা বাজারে দুপুরের খাবার খেতে পারেন। কুরিয়ানা থেকে ভ্যানে করে রায়েরহাট আসলে বরিশাল যাবার বাস পাবেন। পথে গুঠিয়া মসজিদ দেখে বরিশাল গিয়ে ঢাকার লঞ্চ ধরতে পারবেন।

আবার ঢাকা থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় লঞ্চ/ষ্টিমারে উঠে সকালে পৌছে যেতে পারেন বরিশালে অথবা ঢাকা থেকে বাসে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে অটোতে জগদীশপুর বাজার যেতে পারেন। এরপর ট্রলার রিজার্ভ করে সারাদিন ঘুরতে পারেন। ভাড়া পড়বে ২০০০-২৫০০ টাকা। তবে আগে থেকে ট্রলার ঠিক করে রাখতে হবে। এছাড়া নতুন সংযোজন হয়েছে দ্রুতগামী আরও একটি ওয়াটার বাস যা সকলে ঢাকা ছেড়ে দুপুরে পৌঁছে বরিশাল আবার দুপুরে বরিশাল ছেড়ে সন্ধ্যায় পৌঁছে ঢাকায়।

মনে রাখবেন

ভাসমান পেয়ারার বাজার বসে শুধুমাত্র বর্ষাকালে আটঘর কুরিয়ানার ভীমরুলি সহ আশেপাশের কয়েকটি খালে।

সবজি ও চালের ভাসমান বাজার বসে বৌকাঠি ও বানারী পাড়ায় বছর ব্যাপী প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার। হার্থা,উজিরপুরে প্রতি রবিবার ও বুধবার, আটঘর, বৌকাঠি ও স্বরুপকাঠিতে প্রতি সোম ও মঙ্গলবার।

এছাড়া নৌকা কেনা বেঁচার ভাসমান বাজার বসে বর্ষাকালে প্রতি শুক্রবার।

সতর্কতা

  • বেড়াতে যেয়ে পরিবেশ বিনষ্ট হয় এমন
  • কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকুন।
  • ময়লা, আবর্জনা ও খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল ইত্যাদি মাটিতে ফেলবেন না।
  • ধারন ও ক্ষমতার বাইরে বেশী মানুষ কোন নৌযানে উঠবেন না।
  • নৌ ভ্রমণে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন
  • প্রয়োজনে স্থানীয় গাইডের সহায়তা নিন।
  • স্থানীয় মানুষের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।
  • সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ স্থানীয় জনগনকে আঘাত করে এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।
  • যেকোন প্রয়োজনে প্রশাসনের সহায়তা নিন অথবা যোগ্য ভ্রমণ সংস্থার সহায়তা নিন

লেখক-মহিউদ্দিন হেলাল



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / এ/বি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা