police-crime

রাজধানীর তুরাগ থানার পুলিশ সদস্য এসআই সজলকে ৫শ টাকা না দেওয়ায় ট্রাক চালক বাদল মিয়া (৩৫)কে পিটিয়ে তার হাত ও পা ভেঙ্গে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে গুরুতর আহত ট্রাক চালক বাদলকে তার সহকর্মীরা উদ্বার করে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কার্ডিও কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
শুক্রবার রাতে আড়াইটার দিকে তুরাগের বটতলা এলাকায় বালুভর্তি একটি ট্রাকে এঘটনা ঘটে।
তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নুরুল মোত্তাকিন আজ শনিবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহত ট্রাক চালক মো: বাদল মিয়া ও ট্রাক শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে মিরপুর চটবাড়ি বেড়িবাধ এলাকা থেকে ট্রাক চালক বাদল মিয়া তার ফাকা মেট্রো-ট-১৫-৩৭১৯ নম্বর ট্রাকে বালু ভর্তি করে নিয়ে তুরাগের বটতলা এলাকা দিয়ে উত্তরা বালুর ট্রাক স্ট্যান্ডে আসছিল। তুরাগের বটতলা আসার পর তার ট্রাকটিতে তুরাগ থানার এসঅঅই মো: সজল মিয়া ট্রাকটি থামার জন্য সংকেত দেয়। তখন ট্রাক চালক বাদল মিয়া তার ট্রাকটি রাস্তার পাশে থামায়। তখন কোন কথা না বলে এসআই সজল ট্রাক চালকের কাছে ৫০০ টাকা উৎকোচ (ঘুষ) দাবী করে। ট্রাক চালক পুলিশ সদস্য সজলকে তখন চা খাওয়ার জন্য ৫০ টাকা দেয়। তখন এসঅঅই সজল ট্রাক চালক বাদলের ওপর হঠাৎ করে চড়াও হয়ে উঠে। জলদি করে ৫০০ টাকা বের কর। তা না হলে তোর ট্রাক নিয়ে যেতে পারবিনা। এক পর্যায়ে চালক উক্ত পরিমান টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তার ওপর দ্বিতীয় দফা এসআই সজল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাক বিতন্ড হয়। এক পর্যায়ে এসআই সজল ট্রাক চালক বাদলকে ট্রাক থেকে জোর পূর্বক নামিয়ে তার হাতে থাকা লাঠি ও বেত দিয়ে পিটিয়ে বাদলের ডান হাঁত ও এক পা ভেঙ্গে ফেলে। এসময় এসআই সজল আহত উক্ত ট্রাকের চালকের কাছে থাকা নগদ সাড়ে ৭হাজার টাকা জোর পূর্বক ভাবে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন বাদল ও তার ট্রাকে থাকা আরো দুইজন হেলপার বাধা দেয়। পরে খবর পেয়ে উত্তরা ও তুরাগ ট্রাক চালক ও কাভার্ড ভ্যান গাড়ি চালকরা এগিয়ে এসে বাদলকে আহত অবস্থায় উদ্বার করে রাতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কার্ডিও কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। আহতের ঘটনাটি আজ শনিবার সন্থ্যায় তুরাগ থানার ওসি মো: নুরুল মোত্তাকিনকে বিষয়টি অবহিত করা হলে শনিরবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতাল থেকে হাতে ব্যান্ডিস করা অবস্থায় অন্যান্য প্রায় অর্ধ শতাধিক ট্রাক চালকরা মিলে তুরাগ থানায় যায়।
এবিষয়ে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নুরুল মোত্তাকিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানান, ট্রাক চালকরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি তাদেরকে থানায় ডেকেছি। তারা থানায় আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।
উত্তরা-তুরাগ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: রানা আহমেদ জানান, তুরাগ থানার ওসি সাহেব আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে ডেকেছেন। আমরা অর্ধশত ট্রাক ও হেলপারকে সাথে নিয়ে থানায় যাচিছ। আমরা ওসির সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। থানায় মামলা করবো। থানা পুলিশ আমাদের মামলা না নিয়ে পরবর্তীকে আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করবো।
ট্রাক চালক মো: কবীর হোসেন ও ট্রাক মালিকরা জানান, আমরা ন্যায় বিচার চাই। তা না হলে ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আকারে অভিযোগ করবো। ট্রাক চালক বাদলের পিতার নাম মো: আলতাফ হোসেন। পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়া থানার ছলিবপুর গ্রামের তার বাড়ি। উক্ত ট্রাকের মালিক মো: শহিদুল ইসলাম বলে জানা গেছে। এনিয়ে ট্রাক শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছেন।
এবিষয়ে তুরাগ থানার এসআই সজলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / এস.এম.মনির হোসেন জীবন

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা