need-development-dhaka-18

ঢাকা শহরের অন্যতম নির্বাচনী আসন হচ্ছে ঢাকা-১৮ আসন। আসনটির পরিধি অন্যান্য আসনের তুলানায় অধিক বড় ও জনগণের সংখ্যা অধিক হওয়ায় ঢাকা-১৮ আসনটির গুরুত্ব বেশিই বটে। কিন্তু এতদস্বত্ত্বেও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বৃহত্তর উত্তরা নিয়ে গঠিত আসনটি স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতের দ্বারে উপনীত হলেও এখানে এখনও মেলেনি পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা। অথচ ঢাকা-১৮’র অন্যতম স্থান ‘উত্তরা’ হচ্ছে ঢাকা শহরের একটি অন্যতম মডেল টাউন। মডেল টাউন হিসেবে উত্তরা যে পিছিয়ে আছে, তা ঠিক নয়। এখানে যে নাগরিক সুবিধা’র কমতি রয়েছে, তা বলছি না। আবার পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা যে বিদ্যামান তাও কিন্তু নয়। উত্তরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। নানারকম স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় কোন কমতি নেই উত্তরা এলাকায়। যা সময়ের ব্যবধানে বেড়েই চলছে। যা এখানকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তারপরেও উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে এখনও রাস্তঘাটের বেহাল দশা দৃশ্যমান। এই বেহাল দশা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখানের বিশাল অংশ জুড়ে। অথচ এই এলাকাগুলোতে এত পরিমাণ স্থায়ী বাসিন্দা (এই আসনের ভোটার) রয়েছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে জনপ্রতিনিধিরা এখানকার ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়েই সংসদে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগের সার্বিক অবস্থা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। যার কারণে এই এলাকাগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন গত কয়েকদশক ধরেই বাধাগ্রস্থ। উত্তরার সেক্টরগুলোর কথা বলতে গেলে, এখানকার বেশিরভাগ মানুষই বহিরাগত। হাতেগোণা কিছু সংখ্যক মানুষ এই আসনের ভোটার। এলাকার উন্নয়নের জন্য এলাকায় বসবাসকারীরাই বেশিরভাগ নিজেদের অর্থবলে এলাকার উন্নয়ন করে থাকে। তুরাগের বিশাল এলাকা, উত্তরখান, দক্ষিণখানের বসবাসকারীরা অধিকাংশই পূর্বে থেকেই অর্থশালী না হওয়ায় এলাকার মানউন্নয়নের নিজেদের তেমন কোন কার্যক্রম না থাকায় বছরের পর বছর বসবাসের সুস্থ্য পরিবেশ থেকে তারা বঞ্চিত। আবার উত্তরাতে যে শুধুমাত্র অর্থশালীরাই বাস করে তাও কিন্তু নয়। সেক্টরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকে ছাত্র, কর্মজীবি, শিক্ষক সহ প্রায় কয়েক লক্ষ ভাড়াটিয়া। এদের কেউ কেউ নিজেদের জীবিকা চালানোর জন্য ফুটপাতে দোকান করেও জীবিকা চালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানেও তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। ফুটপাতেও প্রতিদিন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চায়ের দোকানদার, ফল বিক্রেতা, কাপড় বিক্রেতাদের চাঁদা হিসেবে দিতে হচ্ছে তিন থেকে চারশ টাকা। যা মরার উপর খাড়ার ঘাঁ ছাড়া আর কিছুই নয়। মাদকের কথা নয় না’ই বললাম। কারণ মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে বৃহত্তর উত্তরার পরিচিতি কতটুকু তা এখানকার নেতাকর্মীরা ভালোভাবেই জানেন। অন্যদিকে, তুরাগের রাস্তাঘাটের যে বেহাল দশা বিদ্যমান, এখানকার জনপ্রতিনিধিদের বলবো ‘বর্ষাকালে তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখানে অন্তত একবার হলেও পরিদর্শণে আসবেন।’ তাহলে বুঝতে পারবেন এখানকার মানুষেরা কত কষ্ট করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে।
সবশেষে একটা কথাই বলবো, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ যে দলের যে প্রার্থীই নির্বাচিত হয়ে আসুন না কেন, এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবযাত্রার পরিবেশটুকু নিশ্চিত করুন। কারণ বাংলাদেশের মানুষ অন্তত বাঁচার মত বাঁচতে চায়, শুধু ভোটের জন্য নয়। আর তাই উপরোক্ত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে আগামীতে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধান করবেন বলে আশা করছি।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / জি/টি

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা