al-mujahidi

সাহিত্যঙ্গনে বাংলাদেশের এক জীবন্ত কিংবদন্তীর নাম আল মুজাহিদী। তিনি বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও সাহিত্যিক। ষাট দশকের কবি হিসাবে তিনি বেশ পরিচিত। বর্তমানেও কবি আল মুজাহিদী তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য স¤পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কবিতা ছাড়াও তিনি গল্প, উপন্যাস, সমালোচনা ইত্যাদি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখেছেন। শিশু সাহিত্যেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারিতে টাঙ্গাইলে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর পিতার নাম আব্দুল হালিম জামালী ও মাতা সখিনা খান। কবির স্ত্রী’র নাম পলিন পারভীন।
১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভিক্টোরিয়া হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গাইলের করটীয়া সাদত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে›। ¯œাতক (কলা) : জগন্নাথ কলেজ, ঢাকা (১৯৬৪); ¯œাতকোত্তর (সমাজবিজ্ঞান) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬);¯œাতকোত্তর (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য); ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৭)। জীবনের শুরু থেকেই তিনি সাংবাদিকতায় নিযুক্ত। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি যায়যায়দিন পত্রিকায় সাহিত্য স¤পাদক হিসেবে যোগ দেন।
কবি আল মুজাহিদী’র প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থাবলী সমূহ হচ্ছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, সআল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি, পালকি চলে দুলকি তালে। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগ্রন্থ হলো- প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকূট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রূপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ, খোকার যুদ্ধ, প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ, ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ সহ লিখেছেন অনেক ছোটগল্প। গবেষণা গ্রন্থ হিসেবে লিখেছেন ‘কালান্তরের যাত্রী’।
দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে তিনি রচনা করেছেন শিশুদের জন্য ছড়া, কবিতা, গল্প। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু শিশু সাহিত্য হচ্ছে- হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি, ইস্টিশানে হুইসেল। অনুবাদ গ্রন্থ হিসেবে তিনি রচনা করেছেন- কাইফি আজমির কবিতা, পৃথিবীর কবিতা, আহমদ ফরাজের কবিতা, ঊর্দূ কবিতা, হিন্দি কবিতা, হাইনরীশ হাইনে-র কবিতা।
২০০৩ সালে একুশে পদক সহ জীবনানন্দ দাশ একাডেমী পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমী পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমী পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার সহ নানা সম্মাণে ভূষিত হয়েছেন।



উত্তরানিউজ২৪ডটকম / কলমবাণী

recommend to friends
  • gplus

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে আমরা