জাতীয়

শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মঙ্গলবার আবারও ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক ভিডিও কনফারেন্সের দ্বিতীয় পর্ব মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন। 

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আজও কয়েকটি প্রকল্পের বিষয়ে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্স করবেন। এটি ভারতের ঋণ রেখার আওতায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার বাংলাদেশ। 

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, যখন দুই প্রধানমন্ত্রী দু’টি ভিডিও কনফারেন্স করেন তখন দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও এর উন্নয়নের প্রতি ভারতের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়। এটি উন্নয়নের প্রতি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।  

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অর্থ ভারতেরও উন্নয়ন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সবাই মিলে একসঙ্গে উন্নতির নীতি অনুসরণ করছেন।

এদিকে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পরিবহন লাইন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। ভারতের আসামের গোলাঘাটের নুমালিগড় তেল পরিশোধনাগার থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত মোট ১৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ভারত বাংলাদেশকে ৫২০ কোটি টাকা অনুদান দেবে। ওই পাইপ লাইনের মাধ্যমে ভারত বছরে ১০ লাখ টন হাইস্পিড ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহ করতে পারবে। 

উল্লেখ্য শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি এ বছর এ পর্যন্ত তিন বার বৈঠক করেছেন। সেগুলো হয়েছে লন্ডন, শান্তিনিকেতন ও কাঠমান্ডুতে। গত ১০ সেপ্টেম্বরের ভিডিও কনফারেন্সে মোদি বলেছেন, তিনি প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে এমন সম্পর্ক চান যেখানে দুই দেশের নেতারা মন চাইলেই সফরে যাবেন, কথা বলবেন। এখানে কোনো রাষ্ট্রাচারের (প্রটোকল) জটিলতা থাকবে না।

বিস্তারিত

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ

জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার ডমিনিক সিডোটি কঠোরতম ভাষায় মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের নেত্রী অং সান সু চির সমালোচনা করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী ক্রিস্টোফার বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্মমতা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চালিয়েছে, তা ঢাকতে গিয়ে নোবেল বিজয়ী সু চি নিজেকে পরিণত করেছে ‘লজ্জা নিবারণের ডুমুরপত্রে’।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের ৪০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপনের আগে যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে তাদের ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

সিডোটি বলেন, রাখাইনে সহিংসতা থামাতে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমারের নেত্রী সু চি এড়াতে পারেন না।

নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন স্থাপনায় একযোগে হামলার পর গতবছর ২৫ অগাস্ট থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর ওই দমন অভিযান শুরু হয়। সেই সঙ্গে শুরু হয় এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সঙ্কট।

তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন অগাস্টের শেষে তাদের ২০ পৃষ্ঠার যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে নৃশংস সেই দমন অভিযানের ভয়াবহতার চিত্র উঠে আসে।    

ওই প্রতিবেদনে বলা বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটিয়েছে।

আইন প্রয়োগের নামে ভয়ঙ্কর ওই অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করারও সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।

এই মিশনের নেতৃত্ব দেন ইন্দোনেশিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মারজুকি দারুসমান। সদস্য হিসেবে আরও ছিলেন শ্রীলঙ্কার আইনজীবী নারী অধিকার বিশেষজ্ঞ রাধিকা কুমারস্বামী।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক মানবাধিকার কমিশনার ও দেশটির আইন সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য সিডোটি বলেন, সু চি প্রথম যে কাজটি করতে পারতেন তা হল- রাখাইনে গণহারে ধর্ষণের যে বিপুল অভিযোগ এসেছে সেসব ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গাওয়া বন্ধ করা। 

‘২০১৫ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ মানুষের ভোট তিনি পেয়েছেন। এটা তাকে বিপুল নৈতিক সমর্থন দিয়েছে কর্তৃত্ব দিয়েছে। সেনাবাহিনীর নৃশংসতার লজ্জা ঢাকতে কৌপিনের ভূমিকা নেওয়া তিনি বন্ধ করতে পারতেন।’

গতবছর গঠিত জাতিসংঘের এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা ৮৭৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়ে, নথিপত্র, ভিডিও, ছবি এবং স্যাটেলাইট ইমেজ পর্যালোচনা করে তাদের প্রতিবেদন তৈরি করেছে। 

সেখানে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্র আরোপিত যে অবিচার চলছে তা প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের রূপ পাওয়ায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ভুগতে হচ্ছে এই জনগোষ্ঠীকে।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বলছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের অপরাধের জন্য পূর্ণ দায়মুক্তি পেয়ে আসছে, কখনোই তাদের বিচারের জবাবদিহি করতে হয়নি। কোনো একটি অভিযোগ উঠলেই তা অস্বীকার করা, খারিজ করে দেওয়া এবং তদন্তের পথ বন্ধ করে দেওয়া হল তাদের সাধারণ নিয়ম।    

তদন্তকারীরা তাদের প্রতিবেদনে বলেছেন, রাখাইনের হত্যাযজ্ঞের হোতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা অস্থায়ী একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে; আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এর পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদে ওই হোতাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা বা এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সিদ্ধান্ত দিয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্যে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উঠেছে, তার বিচারের এখতিয়ার ওই আদালতের রয়েছে।

আইসিসির সদস্য না হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে মিয়ানমার ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলেও বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তাতে সমর্থন দিয়েছে।  

সিডোটি বলছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের সুবিচারের জন্য আইসিসি হতে পারে একটি পথ। এর বাইরে রাখাইনের ঘটনার বিচারের জন্য আলাদাভাবে বিশেষায়িত একটি ফৌজদারি আদালত গঠন করা যেতে পারে।তাছাড়া যে মাত্রার অপরাধ সেখানে হয়েছে, তাতে যে কোনো দেশ তার সার্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার কাজে লাগাতে পারে।

বিস্তারিত

উত্তরার খবর

মেট্রো রেল

রাজধানীতে চলমান মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজের বিষয়ে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নজরদারির দায়িত্বে থাকা আইএমইডি বলেছে, যে পদ্ধতি অনুসরণ করে মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা শুধু জনমানবহীন এলাকায় করা সম্ভব। ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ঠিক নয়। এই কাজের কারণে সড়কে প্রতিদিন যে অসহনীয় যানজট হচ্ছে এবং মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সে ব্যাপারেও অসন্তোষ জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে আইএমইডির একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন তৈরি করে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছে পাঠিয়েছে।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় একযোগে মেট্রো রেলের কাজ শুরু করায় ওই এলাকায় অসহনীয় যানজট তৈরি হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশের সব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ রাখা নিয়ম হলেও মেট্রো রেল প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারে এক টাকাও রাখা হয়নি। এর ফলে মেট্রো রেল প্রকল্পের কারণে সড়কের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা সংস্কার হচ্ছে না।

উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয় এলাকা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেল প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালে শেষ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ডিএমটিসিএলের। উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর থেকে পল্লবী-রোকেয়া সরণি, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও হোটেল, শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড হয়ে মেট্রো রেলের রুটটি মতিঝিল যাচ্ছে।

কাজের ধরন নিয়ে আইএমইডি পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলেছে, মিরপুর এলাকাটি আবাসিক হওয়ায় প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ অফিস-আদালতে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের মুখে পড়ছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ ছাড়া মেট্রো রেল প্রকল্পের কারণে ধুলাবালিও বেড়েছে। এতে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও নাজুক। অনেক স্থানে খানাখন্দে ভরা।

আইএমইডি বলছে, মেট্রো রেল প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য একটি স্বপ্নের প্রকল্প এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম মেট্রো রেল প্রকল্প। তবে যানজট ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে প্রকল্প এলাকায় দিনে কাজ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। রাতের বেলায় কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমইডি। একই সঙ্গে এক  কিলোমিটার করে কাজ শেষ করে সামনে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষকে।

জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার যানজট কমাতে মেট্রো রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি সরকারের একটি মেগা প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পের কারণে যাতে তীব্র যানজট তৈরি না হয়, সেটিও দেখার বিষয়।’

আইএমইডির কর্মকর্তারা বলেছেন, দিনের বেলায় মেট্রো রেলের যানবাহন চলাচল, অ্যালাইনমেন্ট বরাবর মোট সড়কের মাঝে ১১ মিটার প্রশস্ততায় ব্যারিকেড দিয়ে পাইলিং ও পিয়ারের কাজ করায় মিরপুর সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। এই যানজট কমাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জনসাধারণের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলেছে আইএমইডি। এই লক্ষ্যে মেট্রো রেলের অ্যালাইনমেন্ট বরাবর রুট ব্যবহারের যথোপযুক্ত সময় নির্ধারণ এবং জনসচেতনতামূলক সাইন সিগন্যাল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএমটিসিএলের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেছেন, মেট্রো রেলের কাজ দ্রুত মানুষের সামনে দৃশ্যমান করতে চায় সরকার। সে জন্য তাদের ওপর চাপ আছে যত দ্রুত সম্ভব কাজ করার। দ্রুত কাজ করতে গিয়ে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেট্রো রেল প্রকল্পের কারণে আগারগাঁও চার রাস্তার মোড়ে প্রতিদিন তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। অথচ এক বছর আগেও সেখানে তেমন যানজট ছিল না। সাঈদুল ইসলাম নামের একজন বাসযাত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই দিকের রাস্তা সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। তার ওপর রাস্তা খানাখন্দে ভরা। সড়কের এক পাশ দিয়ে শুধু একটি বাস চলতে পারে। এসব কারণে প্রতিদিনই যানজট থাকে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আইএমইডির সুপারিশ মানা হচ্ছে না। মিরপুর ১২ নম্বর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ শেষ না করে নতুন করে ফার্মগেট, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেস ক্লাব এলাকায় কাজ শুরু করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা। আইএমইডি বলছে, ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কটি পুরো ঢাকা শহরের লাইফলাইন। এ অবস্থায় কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ তিন ও চার-এর আদলে যদি একইভাবে পুরো অ্যালাইনমেন্টে একসঙ্গে কাজ শুরু হয়, তাহলে ঢাকায় যানজট প্রকট আকার ধারণ করবে। এ অবস্থায় কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ পাঁচ ও ছয়-এর কাজ এক কিলোমিটার করে শেষ করে সামনে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমইডি।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে ‘মেনটেন্যান্স ডিউরিং কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি খাতে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। উদ্দেশ্য থাকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে সংস্কার করে দেওয়ার। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু মেট্রো রেল প্রকল্পে এই নামের কোনো খাত রাখা হয়নি। বরাদ্দ না থাকায় মেট্রো রেল প্রকল্প এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে না। সড়ক সংস্কার নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মেট্রো রেল প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলছে আলাপ-আলোচনা। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। 

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেট্রো রেল প্রকল্পে সড়ক সংস্কারে টাকা আছে কি না তা আমার জানা নেই।’ এ বিষয়ে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে মেট্রো রেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং ২০১৬ সালে রাজধানীর হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও এখন পুরোদমে চলছে মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ।

বিস্তারিত

বিনোদন

মোশাররফ

মোশাররফ করিম ব্যস্ত অভিনয় নিয়ে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা তমা মির্জার ব্যস্ততা বেশি সিনেমা নিয়ে। এর বাইরে দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বেঁধেছেন জনপ্রিয় এই দুই তারকা।

২০১৫ সালে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ‘অতিথি’ নামের একটি নাটকে। এবার জুটি বেঁধেছেন একটি বিজ্ঞাপনে। রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলালিংকের এ বিজ্ঞাপনটি। এটি নির্মাণ করেছেন আদনান আল রাজীব।

বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়া প্রসঙ্গে তমা মির্জা বলেন, বিজ্ঞাপনে এখন খুব বেশি একটা কাজ করা হয় না। ভালো প্রোডাক্ট ও কনসেপ্ট না হলে বিজ্ঞাপনের মডেল হই না। টেলিকমের এ বিজ্ঞাপনের কনসেপ্টটা ভালো লাগায় কাজটা করেছি। এছাড়াও মোশাররফ ভাই ও নির্মাতা আদনান ভাইয়ের সাথে এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। কাজটা করে ভালো লেগেছে।

নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই বিজ্ঞাপনটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে।

বিস্তারিত

খেলাধুলা

এশিয়া কাপ

এশিয়া কাপের এবারের আসর থেকে ছিটকে গিয়ে বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল আগামীকাল মঙ্গলবার দেশে ফিরে আসবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। তাই এবারের এশিয়া কাপে আর মাঠে নামতে পারছেন না তিনি।

গত শনিবার শ্রীলংকার বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লাকমলের বলে বাঁহাতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল। হাসপাতালে স্ক্যান করানো হলে জানা যায় হাতের কব্জিতে চিড় ধরা পড়েছে।

ফলে সবশেষে এবারের এশিয়া কাপ মিশনের বাকি সময়টাতে আর থাকা হচ্ছে না বাংলাদেশ দলের এই ব্যাটসম্যানের।

এদিকে ওই ম্যাচে আহত অবস্থায় মাঠে নামে মুশফিককে সঙ্গ দেওয়ায় রীতিমত নায়ক বনে গেছেন তামিম ইকবাল। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা থেকে শুরু করে মুশফিক সবার মুখেই তামিম ইকবাল। রমিজ রাজাকে মুর্তজা বললেন, তামিমকে আমাদের মনে রাখা উচিত। দলের প্রয়োজনে হাসপাতাল থেকে ফিরে ফের এক হাতে ব্যাটিংয়ে নেমে যে বীরত্বগাথা রচনা করেছেন তামিম, তা প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে।

বিস্তারিত

বিচিত্র খবর

সাপ

এক ব্যক্তি ২০টি সাপ নিয়ে বিমানে ওঠেন। তিনি জার্মানি থেকে রাশিয়া যাচ্ছিলেন। জার্মানির ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দিয়েই সাপগুলো নিয়ে বিমানে উঠে পড়েন তিনি। তবে, সমস্যার সম্মুখীন হন যখন তিনি রাশিয়ার মস্কোয় শেরেমেত্তেভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, জার্মানি থেকে সাপগুলি নিয়ে সফর করার কাগজপত্র থাকলেও রাশিয়ায় সেগুলি নিয়ে প্রবেশের কোন অনুমতি সেই ব্যক্তির ছিল না। আর সেই কারণে তাকে আটক করা হয় বিমানবন্দরে।

সেখানে দায়িত্বে থাকা পরিবেশ সুরক্ষা দপ্তরের কর্মীরা কোনোভাবে বুঝে যান, ওই ব্যক্তির ব্যাগে সাপ রয়েছে। তারা ওই যাত্রীকে আটক করেন। যদিও ওই যাত্রী সম্পর্কে কোনো তথ্যই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

তবে, আটক ব্যক্তির দাবি, সাপগুলি বিষধর ছিল না। তাই তাতে কারোর আহত হওয়ার বা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল না। রাশিয়ার সেরেমেতয়েভো বিমানবন্দরও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। জার্মানির একটি বাজার থেকে তিনি এই নির্বিষ সাপগুলো কিনেছিলেন। জার্মান পুলিশ কিন্তু ওই ব্যক্তিকে বিমানে ওঠার আগে আটকায়নি। ব্যাগে করে সাপ নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রই নিজের সঙ্গে রেখেছিলেন তিনি। তবে সাপগুলোকে রাশিয়া নিয়ে আসতে কোনো অনুমতি তিনি নেননি। সে কারণেই শেরেমেত্তেভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাকে আটকায়।

আপাতত সাপগুলোকে অন্য এক জায়গায় রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সেগুলিকে পরীক্ষা করবেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, সাপগুলি বিষাক্ত ছিল না।

বিস্তারিত

ছবিঘর

medialinks MAMS image
image



© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
উত্তরা নিউজ ২০১৩-২০১৭